খুঁজুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

প্রধান মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটা করতে দেয়া হবেনা, পার্বত্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
প্রধান মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটা করতে দেয়া হবেনা, পার্বত্যমন্ত্রী

প্রধান মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটা করতে দেয়া হবেনা, পার্বত্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়াই ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ইটভাটায় পাহাড়ের কাছাকাছি স্থাপনা তৈরি করে পাহাড় কেটে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে  তা সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে ফাইতং ইউনিয়নে স্থিত ৩২ টি ইটভটার মধ্যে ৮টি ইটভাটাকে নিয়মিত মামলার আওতায় আনা হয়েছে, বাকি ২৪ টি ইটভাটাকে নামমাত্র মোবাইল কোর্টে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। ইটভাটা মালিকরা বলেন এতে করে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকজন ইটভাটা মালিক বলেন, আমাদের ইটভাটাকে নিয়মিত মামলার আওতায় আনা হয়েছে। আমরা যেমন অপরাধ করেছি পাহাড় কেটে ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা পরিচালনা করে, অন্যান্য ইটভাটা মালিকরা ও একই অপরাধ করেছে,তাহলে তাদের বেলায় কেন প্রশাসন এত সহনশীলতা দেখাচ্ছে?

 

অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব ইটভাটা বছরের পর বছর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর

 

গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ জারি করেন

 

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৩০ দিনের মধ্যে বান্দরবান জেলা প্রাশাসনকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

জানা যায় লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের পাগলীর আগা নামক স্থানে কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

 

জানা যায়, পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬খ ধারা, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে ১২ ধারা, লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত ও ভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এর ৪ ধারা এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

পরিবেশ-মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী রুহুল আমিন বলেন,এসব ধারায় নিয়মিত মামলা হলে অভিযুক্ত ইটভাটাগুলোর মালিকদের বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এতে করে সরকারি কোষাগারে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ জমা হলে,সরকার বা দেশ আংশিক হলেও অর্থনৈতিক ভাবে বলিষ্ট হবে বলে মনে করেন। অপরদিকে নিয়মিত মামলা দায়েরের ফলে অপরাধ সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকরা পাহাড় কর্তন ও ইটভাটা চালু করার প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

 

লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের পরিবেশ কর্মী ফরহাদ সজল জানান,  ইটভাটার বিরুদ্ধে সবগুলো প্রযোজ্য ধারায় নিয়মিত মামলা না করে কেবল পাহাড় কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তুলনামূলক নামমাত্র জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা আদায় একধরনের লোক দেখানো প্রক্রিয়া মাত্র। ইটভাটা মালিক রা উপজেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর কে প্রতিবছর ম্যানেজ করে পাহাড় কর্তন ও ইটভাটা চালু রেখেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

লামা উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক ও কলামিষ্ট জিটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন বলেন,লামা উপজেলার একটি ছোট্ট ইউনিয়নে ৩২ টি ইটভাটার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রতিটি ইটভাটাকে নিয়মিত মামলার আওতায় না আনা হলে, পাহাড় কর্তনের মত পরিবেশের ধংশযজ্ঞ বন্ধ করা সম্ভব হবেনা বলে জানিয়েছেন।

 

ফাইতং ইউনিয়নের সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক কর্মী আলী হায়দার মানিক জানান বিশেষ করে ২০২৫-২০২৬ ইটভাটা মৌসুমে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পরিচালিত প্রায় ৩২টি ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ও পূর্ণাঙ্গ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করে কার্যক্রম শেষ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইটভাটা মালিকরা বড় ধরনের আইনগত ও আর্থিক দায় থেকে রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

গোপনীয় রাখার শর্তে অনুসন্ধানে জানতে পারি কয়েকজন ইটভাটা মালিক থেকে, যে সকল ইটভাটাকে নিয়মিত মামলার আওতায় আনা হয়নি, তাদের কাছ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা করে প্রতিটি ইটভাটা থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরকে যে সকল ইটভাটা মালিকরা ম্যানেজ করতে পেরেছে, তাদের ইটভাটা গুলোকে শুধুমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।যারা ম্যানেজ করতে পারেনি তাদের ইটভাটাকে নিয়মিত মামলার আওতায় আনা হয়েছে।

 

অভিযোগের তীর সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান, ইন্সপেক্টর নুরউদ্দিন বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর,  এবং পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল এর দিকেও স্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগকারীরা বলছেন, কোনো ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স না থাকলে শুধু পাহাড় কাটার অপরাধে জরিমানা আদায় করেই দায় শেষ করার সুযোগ নেই। পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীনভাবে ইটভাটা স্থাপন, লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সব ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

তাদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর সরাসরি নিয়মিত মামলা করলে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হতে পারত। কিন্তু পরিবর্তে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জরিমানা আদায় করায় ইটভাটাগুলো কার্যত আবারও একইভাবে পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে।

 

পরিবেশবাদীদের মতে বিষয়টি শুধু পাহাড় কাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়! এর সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংস, পাহাড়ি ভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট জমির শ্রেণী পরুবর্তন, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং আইন অমান্য করে ইটভাটা পরিচালনার বিষয়ও জড়িত।

 

একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা উৎকোচ গ্রহণ ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

অভিযোগের  বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক নুর হাসান সজিব এর সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে , তিনি এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। ৮টি ইটভাটাকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বাকি ২৪ টা ইটভাটাকে কেন শুধুমাত্র  মোবাইল কোর্ট জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত আমাদের লোকবল কম তাই ধাপে ধাপে সবকয়টি ইটভাটাকে মামলার আওতাশ আনা হবে বলে জানিয়েছেন।

 

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস বলেন,অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কর্তন ঠেকানো শুধুমাত্র প্রশাসনের কাজ নয়। স্থানীয় লোকজন ও জন-প্রতিনিধিদের ও আন্তরিক হতে হবে এবং অভিযোগ লিখে পাঠাতে হবে। নিয়মিত মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়মিত মামলা দায়ের এইটা পরিবেশ অধিদপ্তর এর এক্তিয়ার ভূক্ত কাজ। জেলা প্রশাসক এর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকেন।

 

চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে লামায় ইটভাটা চালুর রাখার সম্ভাবনা আছে কি, প্রসঙ্গে   পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা  রয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে কোন ইটভাটা আর চালু করতে দেওয়া হবেনা।

১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

মোহাম্মদ আলমগীর লামা, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার সকল প্রকার রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম উপজেলা পর্যায় হইতে জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়াছে। দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগব্যবস্থা এবং জেলা সদরের সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হইলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়িতে হইবে বলিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন এলাকাবাসী। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করিয়া পূর্বের ন্যায় লামা উপজেলা পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর দাবি জানাইয়াছেন তাঁহারা।

 

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০-এর ২০ বিধি অনুযায়ী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা গত ২৬ অক্টোবর একটি আদেশ জারি করেন। আদেশে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারির পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা হইতে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতদিন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হইয়া আসিতেছিল।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালে লামা উপজেলায় বায়নাপত্র, সাব-কবলা, দানপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও চুক্তিনামাসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১ হাজার ২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হইয়াছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়িয়াছে।

 

স্থানীয়দের মতে, লামা উপজেলা হইতে বান্দরবান জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। পাহাড়ি ও দুর্গম সড়ক পাড়ি দিয়া একটি সাধারণ রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করিতেও অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করিতে হইবে। বিশেষ করিয়া বয়স্ক, অসুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিষয়টি আরও দুর্ভোগের কারণ হইয়া দাঁড়াইবে।

 

লামা উপজেলার ৬ নম্বর রূপসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “লামা হইতে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছোটখাটো রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজের জন্যও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করিয়া জেলা সদরে যাইতে হইবে। ইহাতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হইবেন।”

 

একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করিয়া ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রশাসনের উচিত বিষয়টি মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ হইতে বিবেচনা করা। জনদুর্ভোগ কমাইতে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দ্রুত পূর্বের নিয়মে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফিরাইয়া আনার জোর দাবি জানাইতেছি।”

 

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, “রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন বিষয়। সরকারি দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা কাজ করিতে বাধ্য। তবে লামা হইতে বান্দরবানের দূরত্ব বেশি হওয়ায় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বোধগম্য।”

 

অন্যদিকে, বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন। তিনি যেকোনো ইউএনওকে এই দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রত্যাহার করিতে পারেন। তবে বিষয়টি লইয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হইবে বলিয়া তিনি আশ্বাস দেন।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানিবার জন্য বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হইলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁহার বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করিবে। তাই জনস্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করিয়া লামায় পূর্বের ন্যায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর দাবি জানাইয়াছেন তাঁহারা।

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান:

বান্দরবান, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বান্দরবান সদর সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবসমাজের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সহযোগিতায় বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ০২ নভেম্বর (সোমবার) জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব এস এম আব্দুচ সালামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা জামায়াত আমীরের হাতে প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ৪৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ‘স্বর্ণালী’ স্মারক গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ ইসলামী বই উপহার দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুচ সালাম বলেন, “দেশ ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা ও থানচিসহ বিভিন্ন দুর্গম উপজেলার আরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দরকার। এই এলাকার সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন: সভাপতি নাছিরুল আলম, সাবেক সভাপতি  আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিটন, সাধারণ সম্পাদক: এন এ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিজভী রাহাত, অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ ইসহাক সহ অন্যান্য সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন সম্রাট, ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও জেলা বারের সভাপতি এড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, সেক্রেটারী: অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারী: অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা সভাপতি: অধ্যাপক হামেদ হাসান, জেলা যুব ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী: ওবাইদুল হক এছাড়াও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।