বাঁশখালী পৌরসভাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মেগা পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের দাবি।
বাঁশখালী পৌরসভাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মেগা পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের দাবি।
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি:
২০২৬ সালের ভয়াবহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁশখালী পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির পর স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জোরালো হয়েছে। পৌরবাসীর পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত মেগা ড্রেনেজ (পানি নিষ্কাশন) প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাঁশখালী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের শতভাগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে “গ্রাম হবে শহর” কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালী পৌরসভার যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় আজও পৌরবাসী জলাবদ্ধতার মতো মৌলিক সমস্যায় ভুগছে। তাই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নতুন পৌর কর্তৃপক্ষের প্রথম মেগা প্রকল্প হওয়া উচিত স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন।
বিবৃতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াশার ট্যাংক সংলগ্ন বড়ুয়াপাড়া এলাকার খাল পুনঃখনন করে জলকদর খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং পৌরসভার জীবিত ও মৃত ছড়াগুলোকে প্রধান খালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।
এছাড়া উত্তর জলদীর পাইরাং ছড়া, উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন জলদী ছড়া এবং দক্ষিণ জলদী-শীলকূপ ছড়াকে প্রশস্ত ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলকদর খালের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানানো হয়। তার মতে, এসব ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলের কারণে ছড়াগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করছে। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ছড়া ও খাল পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া উত্তর জলদী হাজী রফিক উদ্দিন সড়ক সংলগ্ন ছড়া, সেনাতলী সিকদার বাড়ি এলাকা, বাহার উল্লাপাড়া বড় মাদ্রাসা সংলগ্ন অসম্পূর্ণ ড্রেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ছড়া এবং কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন অসম্পূর্ণ ড্রেন দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কার করে বড়ুয়াপাড়া খালের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাট্টলতলী এলাকায় একটি সুইসগেট নির্মাণ করা হলে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনার পানি সংরক্ষণ করে পৌরসভার ২, ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বোরো চাষ, সবজি উৎপাদন এবং মৎস্য প্রকল্পে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন আবাসিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত প্রশস্ত সড়ক এবং ফায়ার সার্ভিস চলাচল উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। নতুন সড়ক নির্মাণের সময় উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানান তিনি।
মোশাররফ হোসেন বলেন, “পৌরসভার বড় খালগুলোর সঙ্গে অসংখ্য ছোট ছড়া ও ড্রেন সংযুক্ত রয়েছে। এসব স্থানে সমন্বিত জরিপ ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে একটি মেগা পানি নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে বাঁশখালী পৌরসভাকে জলাবদ্ধতামুক্ত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।”


আপনার মতামত লিখুন
Array