খুঁজুন
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবান শহরের প্রবেশমুখে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন পাঁচতলা ‘জয়িতা ভবন’ নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের বিপণিবিতান হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত এ ভবনটি আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজও চালু হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরই মধ্যে ভবনটি সংস্কার ও চালুর জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কার কাজ।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটি নির্মাণ করে। পাঁচতলা এই ভবনে রয়েছে ৪৫টি দোকান, দুটি ভিআইপি কক্ষ, একটি ফুড কোর্ট, কিডস কর্নারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বান্দরবানের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক বিপণিবিতান গড়ে তোলা, যেখানে তারা নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পর্যটননির্ভর এই জেলায় স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।

 

কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক জটিলতা, দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি এখন গরু-ছাগলের বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে। রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদেরও আনাগোনা রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশা বলেন, “বছরের পর বছর ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে। সরকারি এত বড় একটি সম্পদ এভাবে পড়ে থাকা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত চালু করলে নারী উদ্যোক্তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি ভবনটিও সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে।”

 

আরেক বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, “এত টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছে না। এটি দ্রুত চালু করে নারী উদ্যোক্তাদের হাতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।”

 

গুংগুরু পাড়া উপজাতীয় মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি লাক্রাই খেয়াং বলেন, “পার্বত্য এলাকার অনেক নারী নিজস্ব হস্তশিল্প, তাঁতের কাপড়, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু বিক্রির জন্য স্থায়ী কোনো জায়গা নেই। জয়িতা ভবন চালু হলে এসব নারী স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ পাবেন।”

 

লেমুঝিড়ি আগাপাড়া মহিলা সমিতির সভাপতি বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য এই ভবনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। দীর্ঘদিনেও চালু না হওয়ায় নারী উদ্যোক্তারা হতাশ।”

 

জয় একতা মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি উম্মে কুলসুম খুখী (সাথী) বলেন, “জয়িতা ভবনটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ ছিল। কিন্তু আট বছর ধরে ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা হতাশ। বান্দরবানের অসংখ্য নারী নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প, তাঁতের কাপড়, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির জন্য একটি স্থায়ী বিপণিবিতানের অপেক্ষায় আছেন। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে ভবনটি চালু করা হলে নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ পাবেন এবং জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

 

বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, “পর্যটকদের কাছে স্থানীয় নারীদের তৈরি পণ্য তুলে ধরার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হতে পারত। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় প্রকল্পটি এখন অচল হয়ে আছে।”

 

বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জয়িতা ভবন দ্রুত চালু হলে জেলার শত শত নারী উদ্যোক্তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলায় নিবন্ধিত অন্তত ৬৪টি মহিলা সমিতির প্রায় দুই হাজার নারী উদ্যোক্তা একটি স্থায়ী বিপণিবিতানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন মেলা বা অস্থায়ী স্টলে পণ্য বিক্রি করেন। স্থায়ী বিপণিবিতান চালু হলে তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে ভবনটি সংস্কার ও চালুর জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রায় দেড় কোটি টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত। তবে বরাদ্দ অনুমোদনের পরও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

 

এ বিষয়ে জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন,তিনি বলেন জয়িতা ভবন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নারী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিপণিবিতানটি পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক জয়িতা ভবন পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জয়িতা ভবন চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

 

তিনি আরও বলেন,এটি চালু হলে বান্দরবানের নারী উদ্যোক্তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও এগিয়ে যাবে।”

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত জয়িতা ভবন চালু করা হলে শুধু নারী উদ্যোক্তারাই নয়, পর্যটননির্ভর বান্দরবানের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনাটি আর অবহেলায় পড়ে না থেকে নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন জেলার সর্বস্তরের মানুষের।

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

ক্রাইম রিপোটার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর ১৯ বছর বয়সী তরুণ মোঃ জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হতে চললেও মামলার দৃশমান কোনো অগ্রগতি নেই। মূল আসামিদের একজন কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা অধরা থাকায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের অসচ্ছল পরিবার। এর পাশাপাশি অর্থাভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিহতের দরিদ্র পিতা।

 

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেনের বাবা মোঃ আলম বাদশা পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত মিশুকচালক। মূল বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার দীঘলটারী এলাকায় হলেও পরিবার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

 

২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জাকির তাঁর বাবার ব্যাটারিচালিত মিশুকটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর থানার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর এলাকার একটি ছোট ডোবার পানিতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম বাদশা নিজের ছেলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের গলার বাঁ পাশে, বাঁ চোখে এবং ডান গালে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ বাবার।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ১১)। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— ১. সুমন কুমার সূত্রধর (৩৬): পিতা- হরিপদ চন্দ্র সূত্রধর, সাং- একরামপুর বাজার (সালাম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। (বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন) ২. মোঃ শাহিন (২১): পিতা- মোঃ আজিজুল, সাং- একরামপুর ইস্পাহানি, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মোঃ সিয়াম রহমান (২৬): পিতা- মৃত হাবিবুর রহমান, সাং- ৩৬৫ নং শাহসুজা রোড (পাইকপাড়া), নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও মামলায় আরও ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২ নম্বর আসামি সুমন কুমার সূত্রধর বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য এজাহারভুক্ত আসামি- মোঃ শাহিন ও মোঃ সিয়াম রহমানসহ অজ্ঞাত সহযোগীরা এখনো অধরা। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে।

 

একজন সাধারণ মিশুকচালক হিসেবে নিহতের বাবা আলম বাদশার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মামলার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “পোলাটারে নির্মমভাবে কুপাইয়া মাইরা ফেললো। এক আসামি জেলে থাকলেও বাকিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সার অভাবে ঠিকমতো আইনি লড়াই চালাতে পারছি না। তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

 

নিহত জাকির হোসেনের পরিবার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার আকুতি জানিয়েছেন। অর্থাভাবে জর্জরিত পরিবারটির একটাই দাবি- মামলার বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে বাদিপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হোক। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।অসহায় পরিবারটিকে সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইডের) আওতাভুক্ত করে বিনামূল্যে আইনি সুবিধা প্রদান করা হোক।

 

নিঃস্ব এই বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া-টাকার অভাব কিংবা প্রভাবশালীদের প্রভাবে যেন ১৯ বছরের তরুণ জাকির হত্যার বিচার ভেস্তে না যায়, তারা আদালতের মাধ্যমে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 75.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

‘যুব, ঐক্য ও প্রগতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য রেলি ও যুব সমাবেশের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯শে অক্টোবর) বিকেলে জেলা শহরের প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বান্দরবান জেলা যুবদলের উদ্যোগে এ যুব সমাবেশ ও বর্ষপূর্তি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি এমপি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ আব্দুল মাবুদ এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান মিটন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আবু বক্কর, মোঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ নেজাম উদ্দীন চৌধুরী ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুমের সভাপতিত্বে এবং মোঃ আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই যুব সমাবেশে বান্দরবানের ৭টি উপজেলা, ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক সুশৃঙ্খলভাবে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাচিং প্রু জেরি বলেন, দেশ ও জাতির প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামীতেও যুব, ঐক্য ও প্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে দলকে সুসংগঠিত করা এবং দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য: ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের যুবসমাজকে সুসংগঠিত করা, উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান মূল দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘যুবদল’ গঠন করেন। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং যুবসমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা থেকে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।