খুঁজুন
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বিদ্যুৎ খাতে সংকট: সামনে আসছে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুৎ খাতে সংকট: সামনে আসছে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব

বিদ্যুৎ খাতে সংকট: সামনে আসছে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত দেড় দশকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি সচল ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সময়ে বিদ্যুৎ খাত সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত বিশেষ বিধানের পরিবর্তন এবং নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য।

 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের কার্যকারিতা নিয়ে পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে পাইপলাইনে থাকা বেশ কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়।

 

দাবি করা হচ্ছে, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল কয়েক হাজার মেগাওয়াট। পরবর্তী সময়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা এবং রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তার বিষয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

 

তবে প্রকল্প বাতিল ও নতুন দরপত্রের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি ছিল—বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং আগের ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করা।

 

বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া বিল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন তথ্য ও খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা বড় অঙ্কে পৌঁছেছে।

 

বিশেষ করে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে জ্বালানি কেনা ও কেন্দ্র পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়লা ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অর্থের সংস্থান না থাকলে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যায় না। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং বাড়তে পারে।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এলএনজি-সংক্রান্ত একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটি নিয়ে জ্বালানি খাতে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।

 

সমালোচকদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সম্পৃক্ততা এবং প্রচলিত ক্রয়প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমঝোতাকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছে।

 

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটি বন্ধ বা বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু একটি সরকারের সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জ্বালানি খাতের অনেক পর্যবেক্ষক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অতিরিক্ত সক্ষমতা, গ্যাসের ঘাটতি, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে সংকটকে তীব্র করতে পারে।

 

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্প বাতিল, নতুন দরপত্র এবং বকেয়া ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

 

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বাতিল হওয়া কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

 

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, সময়মতো বকেয়া পরিশোধ এবং দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহেসান মৌলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোঁওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকবৃন্দ।

 

সভায় বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিচালনা কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। নবগঠিত এডহক কমিটি বিদ্যালয়ের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরে এডহক কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

মোঃ আঃ লতিফ মিয়া টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের সখিপুর ফাঁসিতে ঝুলে শাহনাজ (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়।

 

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুৃমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

 

গৃহবধূ শাহনাজ উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বানিয়ারসিট পূর্বপাড়া নুরজামাল এর স্ত্রী । নুরজামাল ওই গ্রামের মৃত সায়েম উদ্দিন এর ছেলে।

 

শাহনাজ উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চকচকিয়া শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন শাহনাজের স্বামীর পরিবার সখিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

আরো জানা যায়, স্ত্রী শাহানাজের আকস্মিক এরকম মৃত্যুর পর স্বামী নুরজামালের আচরণে-অনুভূতিতে বিশেষ কোনো অনুশোচনার চিহ্ন পাওয়া যায় নাই। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করার পর লাশটি পুলিশ আসার পূর্বেই স্বামীর পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ছিল বলে জানা যায়।

 

এদিকে এ বিষয়ে মৃত শাহনাজের বাবা আব্দুল আজিজ  জানান, গত প্রায় ১২ বছর পূর্বে  নূরজামালের সাথে আমার মেয়ের বিবাহ হয়। মাঝে মধ্যেই তাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো বলে আমার মেয়ে জানাত। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে সে সব বিষয় নিয়ে অনেক সালিশি বৈঠক হয়।

 

তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। ছোটখাটো অনেক ঘটনাই ঘটছে, কিন্তু আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে জানাইতো না। আমার মেয়ে সারাদিন কাজ করতো , স্বামীর গরু ও মুরগির খামার আমার মেয়েই সামলাতো। কাজ করতে করতে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলো। আমার মেয়ে সংসারী ছিল। তার দুটি শিশু বাচ্চা রেখে সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না।

 

শাহনাজের বাবা আরো বলেন, সাংসারিক বিষয়ের ভালো-মন্দ কোন বিষয়েই মেয়ের জামাই কোনো সংবাদ আমাদের জানাতোনা। এমনকি মেয়েকে আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করতে দিত না।

 

মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়ে সুস্থ -সবল শাহনাজের মাথায় সমস্যা এমন মিথ্যা অপবাদও দিচ্ছে। আমার মেয়েকে তারা হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

 

নিহত শাহনাজের স্বামী নুর জামাল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে বলেন, শাহনাজের মাথায় সমস্যা ছিল। গত বৃহস্পতিবার শাহানাজ ঘরের ভেতর দড়ি দিয়ে ঝুলে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এ বিষয়ে সখিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,  থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

 

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের -১ নং ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এক মারমা কিশোরীকে একই সম্প্রদায়ের চার যুবক মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে জোরপূর্বক ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযুক্তরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মারমা-র ছেলে ক্যসিংনু মারমা, ঞোচিংঅং মারমা-র ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমা-র ছেলে সিংহ্লা মারমা ও মৃত মংচহ্লা মারমা-র ছেলে উশৈনু মারমা।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিং নু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা নামে এক যুবকও তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, উশৈনু মারমা একজন সন্তানের বাবা।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য অনুজায়ি ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা গর্ভপাতের ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ পেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবানে পাঠানো হয়।

 

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তার গর্ভধারণ ও পরবর্তী জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে তারা দাবি করেছেন। পাড়াবাসীর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য মংছো মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপনে সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার বা স্বজনদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তাকে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিশোরীর বাবা গত -১২ সেপ্টেম্বর রুমা থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় দুই দিন আগে রুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাকে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।