খুঁজুন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

ফিজিওথেরাপি সেবার মানোন্নয়ন ও বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের দাবি

 

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

এ বছরের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো-

 

“হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা।”

 

র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপিস্ট জনাব ডক্টর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক, চট্টগ্রাম জনাব মোয়াজ্জেমুল হক।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগ ও স্ট্রোক অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড ও বৈজ্ঞানিক ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগীর শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, চলাফেরার দক্ষতা বৃদ্ধি, দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম।

 

সভাপতি, জনাব ডক্টর কামরুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য পুনর্বাসনসেবা একটি সুসংগঠিত, নিরাপদ ও মানসম্মত কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ স্বীকৃতি ও অনুমোদনের আওতায় আনা এবং যোগ্য পেশাজীবীদের নিবন্ধনের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

তারা বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, মেরুদণ্ড ও অস্থিসন্ধির সমস্যা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাতসহ নানা কারণে পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবাকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।

 

জনাব মো: শহিদ খান বলেন, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস কেবল একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দিবসের মাধ্যমে জনগণের মাঝে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮-এর যথাযথ বাস্তবায়ন, ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের নিবন্ধন ও পেশাগত মান নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফিজিওথেরাপিস্টদের যথাযথ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মোয়াজ্জেমুল হক বলেন, ফিজিওথেরাপি বর্তমানে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু ব্যথা নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগ প্রতিরোধ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা ও রোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পেশার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মোঃ শহিদ খান,মোঃ আক্তার হোসেন. মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ জাহেদুল ইসলাম, মোঃ ওয়াদিফ ওয়ালি ফারাবী, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ এ. কে. এম. আজিজুল হক, মোঃ আহসান উদ্দিন, মোঃ শামীমা নাসরীন, মোঃ কামরুল হাসান ও শারমিন আবেদা রফিক।

 

এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যুরো প্রধান, সহ- সম্পাদক, সাংবাদিক ও প্রতিনিধিবৃন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে বক্তারা বলেন, “সুস্থ দেহ, সচল জীবন ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।” ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার যথাযথ বিকাশের মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান আরও উন্নত হবে-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সাতকানিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু

সাতকানিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত সাইফুদদীন (৩০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সাইফুদদীন সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মলেয়াবাদ এলাকার ফজল করিম সওদাগরের ছেলে এবং কালিয়াইশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ কবিরের ভাতিজা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ছাত্রদলনেতা ইলিয়াস সানির সাথে সাইফুদদীনের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর কালিয়াইশ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাঠগড় এলাকার শফি ড্রাইভারের ছেলে ও ছাত্রদলনেতা ইলিয়াস সানির নেতৃত্বে সাইফুদদীনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলায় আব্দুল জব্বার মানিক, হাসান, কায়েফ ও আসিফসহ ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় সাইফুদদীন গুরুতর জখম হন।

 

এদিকে হামলা ও আহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একটি আর্থিক দফারফার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠলেও নিহতের স্বজনরা তা অস্বীকার করেছেন। নিহতের আত্মীয় মিজান জানান, ঘটনার পর আহত সাইফুদদীন বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়। আপোষ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন।

 

নিহতের বড় ভাই জসিম বলেন, “আমার ভাই মারধরের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেছে। আমি এখন মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত ও টেনশনে আছি, এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”

 

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহেসান মৌলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোঁওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকবৃন্দ।

 

সভায় বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিচালনা কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। নবগঠিত এডহক কমিটি বিদ্যালয়ের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরে এডহক কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

মোঃ আঃ লতিফ মিয়া টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের সখিপুর ফাঁসিতে ঝুলে শাহনাজ (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়।

 

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুৃমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

 

গৃহবধূ শাহনাজ উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বানিয়ারসিট পূর্বপাড়া নুরজামাল এর স্ত্রী । নুরজামাল ওই গ্রামের মৃত সায়েম উদ্দিন এর ছেলে।

 

শাহনাজ উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চকচকিয়া শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন শাহনাজের স্বামীর পরিবার সখিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

আরো জানা যায়, স্ত্রী শাহানাজের আকস্মিক এরকম মৃত্যুর পর স্বামী নুরজামালের আচরণে-অনুভূতিতে বিশেষ কোনো অনুশোচনার চিহ্ন পাওয়া যায় নাই। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করার পর লাশটি পুলিশ আসার পূর্বেই স্বামীর পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ছিল বলে জানা যায়।

 

এদিকে এ বিষয়ে মৃত শাহনাজের বাবা আব্দুল আজিজ  জানান, গত প্রায় ১২ বছর পূর্বে  নূরজামালের সাথে আমার মেয়ের বিবাহ হয়। মাঝে মধ্যেই তাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো বলে আমার মেয়ে জানাত। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে সে সব বিষয় নিয়ে অনেক সালিশি বৈঠক হয়।

 

তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। ছোটখাটো অনেক ঘটনাই ঘটছে, কিন্তু আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে জানাইতো না। আমার মেয়ে সারাদিন কাজ করতো , স্বামীর গরু ও মুরগির খামার আমার মেয়েই সামলাতো। কাজ করতে করতে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলো। আমার মেয়ে সংসারী ছিল। তার দুটি শিশু বাচ্চা রেখে সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না।

 

শাহনাজের বাবা আরো বলেন, সাংসারিক বিষয়ের ভালো-মন্দ কোন বিষয়েই মেয়ের জামাই কোনো সংবাদ আমাদের জানাতোনা। এমনকি মেয়েকে আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করতে দিত না।

 

মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়ে সুস্থ -সবল শাহনাজের মাথায় সমস্যা এমন মিথ্যা অপবাদও দিচ্ছে। আমার মেয়েকে তারা হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

 

নিহত শাহনাজের স্বামী নুর জামাল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে বলেন, শাহনাজের মাথায় সমস্যা ছিল। গত বৃহস্পতিবার শাহানাজ ঘরের ভেতর দড়ি দিয়ে ঝুলে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এ বিষয়ে সখিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,  থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।