খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

২৫ আগস্ট আসে আর যায় কিন্তু রোহিঙ্গারা যায়না সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
২৫ আগস্ট আসে আর যায় কিন্তু রোহিঙ্গারা যায়না সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে।

২৫ আগস্ট আসে আর যায় কিন্তু রোহিঙ্গারা যায়না সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে।

এম গফুর উদ্দিন চেীধুরী :

 

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও বেদনাবিধুর দিন। ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ২৫ আগস্ট আসে আর যায়, কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না।

 

বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড় কেটে তৈরি করা ক্যাম্পে কাটছে তাদের বন্দি জীবন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা না থাকায় মিয়ানমার সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি। ক্যাম্পের জীবনে রোহিঙ্গারা ত্রাণ-নির্ভর ও পরিচয়হীন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

সরকারের কিছু অসাধু আমলা, বাংলাদেশের কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী এনজিও ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সং¯’ার (আইএনজিও) অপ তৎপরতার কারণের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জটিল হয়ে উঠেছে। এসব কুলাঙ্গার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে নিরুৎসাহিত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এই সং¯’াগুলো রোহিঙ্গাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে এবং তাদের বাংলাদেশে রেখে দেয়ার জন্য নতুন ক্যাম্প নির্মাণ করছে।

 

আমি মনে করি, যেসব কারণে প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি হ”েছ, তারমধ্যে অন্যতম কারণ কিছু এনজিও ও আইএনজিও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দিয়ে দাতা সং¯’ার অর্থ লুটপাট চালিয়ে যেতে চায়। প্রত্যাবাসন হলে তাদের কার্যক্রম ও অর্থপ্রাপ্তি বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু সং¯’া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের বর্তমান পরি¯ি’তি সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে এবং তাদের দেশে ফিরতে অনাগ্রহী করে তোলে। তারা রোহিঙ্গাদের জানায় যে, তারা দেশে ফিরে নিরাপত্তা ও অধিকার পাবে না। কিছু এনজিও এলাকায় নতুন করে ক্যাম্প তৈরি করে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর নির্মাণের নামে পাহাড় কাটছে, যা থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করা হ”েছ বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু সং¯’া মানবিক কারণ দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে ¯’ায়ী ব্যব¯’া নিতে চাইছে, যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। রোহিঙ্গা শিবিরে থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট সেবা রাতে বন্ধ রাখা হ”েছ, যাতে রোহিঙ্গারা বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে এবং তাদের উপর থাকা সং¯’াগুলোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

 

এই পরি¯ি’তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানা”িছ। সংকটটি মূলত মিয়ানমার সরকারের নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণেও দীর্ঘায়িত হ”েছ। গোয়েন্ধা তথ্যের ভিত্তিতে দেশদ্রোহী অভিযুক্ত এনজিও এবং আইএনজিওগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন ¯’গিত করা হয়েছে। প্রত্যাবাসন বিরোধী ও রোহিঙ্গাবান্ধব অসাধু সরকারী কর্মকর্তাদের কক্সবাজার হতে প্রত্যাহার করে কঠোর শা¯ি’র আওতায় নিয়ে আসা হয়। কারণ তাদের কার্যকলাপ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের শ্রেণিস্বার্থকে প্রাধান্য দি”েছ বলে প্রতীয়মান হয়। তবে, এনজিও ও আইএনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের সহায়তা ও সুরক্ষার নামে মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আড়ালে দেশবিরোধী তথা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ড চালা”েছ।

 

আমি সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি এনজিওগুলোর কার্যক্রম তদারকি করার সুপারিশ করেছি। সেই সাথে এনজিও ও আইএনজিওদের কার্যক্রমের স্ব”ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ বা অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং রোহিঙ্গা ঢলকে কিছুটা স্বাগত জানিয়েছিল মাদার অব হিউম্যানিটির আড়ালে নোভেল প্রাপ্তির হীন লোভে।

 

আশার বিষয় যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাবাসন ইস্যুটি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এজেন্ডা এগিয়ে নেয়ার জন্য একাধিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল বাড়ানো এবং তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ জোরদার করতে চলতি আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে ৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘অংশীজন সংলাপ’ নামে প্র¯‘তিমূলক একটি সম্মেলন আজ ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সম্মেলনের পর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গাবিষয়ক আরেকটি উ”চপর্যায়ের সম্মেলন। এ ছাড়া, কাতারের দোহায় ৬ ডিসেম্বর আয়োজিত হবে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আসন্ন সম্মেলনগুলোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি ¯’ায়ী ও প্রকৃত সমাধান খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। আমি কার্যকর প্রত্যাবাসন অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নিম্নলিখিত সুপারিশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আর একজন রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে নতুনভাবে প্রবেশ না করে। সব এনজিও হতে কর্মরত রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়ে ¯’ানীয়দের চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া, অবেধ এনআইডি ধারীদের চিহ্ণিত করে বাতিল করা।

 

সময়মতো তহবিল নিশ্চিতকরণ: আন্তর্জাতিক সং¯’া ও দাতাদের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সময়মতো প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়ের ব্যব¯’া নিতে হবে।

 

আশ্রয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধি: ক্যাম্পের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধে বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আরও টেকসই কাঠামো, যেমন কংক্রিটের দেয়ালে উন্নীত করার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচিতে সহায়তা বৃদ্ধি: বিভিন্ন বয়সের গোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে মুরগি পালন, মেকানিক কাজ, দর্জি, হস্তশিল্প, বাঁশের তৈরি সামগ্রী, মাছ ধরার জাল তৈরি, পোশাক উৎপাদন ও গৃহ¯’ালি বাগান করার মতো কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণমূলক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। এসব দক্ষতা ভবিষ্যতে তাদের নিজ দেশে ফেরার পরও কাজে লাগবে।

 

দুর্যোগ ব্যব¯’াপনা ও আইনশৃঙ্খলা বিধান: যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি থেকে ক্যাম্পগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর দুর্যোগ ব্যব¯’াপনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে, যেকোনো সময় পরি¯ি’তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও উপ¯ি’তি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

প্রত্যাবাসনই টেকসই সমাধান: রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান হলো স্বে”ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন।

 

বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ সংকট হলো মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মানবিক ও কৌশলগত সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক উদাহরণ হতে পারে ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রহণ করা দূরদর্শী ও সফল কূটনীতি।

 

১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ‘অপারেশন ড্রাগন কিং’ পরিচালনার মাধ্যমে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই সংকট মোকাবিলায় একাধারে মানবিক উদারতা এবং দৃঢ় ও দূরদর্শী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির মেলবন্ধন ঘটান। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যেমন সম্পৃক্ত করেন, ঠিক তেমনি মিয়ানমার সরকারের ওপর জোরালো দ্বিপাক্ষিক মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন। ফলস্বরূপ, ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসেই মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয় এবং অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে মর্যাদার সাথে সিংহভাগ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়।

 

আজকের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল। এই চলমান সংকটকে স্থায়ী ও টেকসই রূপ দিতে শহীদ জিয়ার সেই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ও কৌশলগত দৃঢ়তাকে পুরোপুরি ধারণ করা প্রয়োজন।

 

আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি: জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আসিয়ানকে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা।

 

দ্বিমুখী কূটনীতি: মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকারের পাশাপাশি রাখাইনের প্রভাবশালী ভূরাজনৈতিক পক্ষগুলোর (যেমন আরকান আর্মি) সাথে সমান্তরাল আলোচনা বজায় রাখা।

 

আঞ্চলিক ভারসাম্য: চীন ও ভারতের সাথে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের মধ্যস্থতা নিশ্চিত করা।

 

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর কঠোর নিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।

 

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। শহীদ জিয়া প্রমাণ করেছিলেন যে, ধৈর্যশীল অথচ আপসহীন কূটনীতির মাধ্যমে মিয়ানমারকে বাধ্য করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের জন্য সেই ঐতিহাসিক ও সফল দূরদর্শিতাকে সমসাময়িক ভূরাজনীতির আলোকে প্রয়োগ করাই হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একমাত্র টেকসই পথ

 

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান: জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক মানবিক সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়। এটি মূলত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের ফল। রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জাতিগত নিপীড়ন, ধর্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার। তাদের প্রতি সুবিচার অস্বীকার করা মানে ইতিহাসের অবিচারকে আরও তীব্র করা। রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক জরুরি অব¯’া নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী সংহতির একটি পরীক্ষা। জরুরি তহবিল, শিক্ষা ও সুরক্ষা ছাড়া হতাশা তাদের জীবনের অংশ হয়ে যাবে এবং অ¯ি’তিশীলতা সীমান্ত পেরিয়ে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

 

লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি, সিনিয়র সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ, কক্সবাজার।

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান:

বান্দরবান, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বান্দরবান সদর সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবসমাজের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সহযোগিতায় বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ০২ নভেম্বর (সোমবার) জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব এস এম আব্দুচ সালামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা জামায়াত আমীরের হাতে প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ৪৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ‘স্বর্ণালী’ স্মারক গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ ইসলামী বই উপহার দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুচ সালাম বলেন, “দেশ ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা ও থানচিসহ বিভিন্ন দুর্গম উপজেলার আরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দরকার। এই এলাকার সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন: সভাপতি নাছিরুল আলম, সাবেক সভাপতি  আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিটন, সাধারণ সম্পাদক: এন এ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিজভী রাহাত, অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ ইসহাক সহ অন্যান্য সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন সম্রাট, ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও জেলা বারের সভাপতি এড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, সেক্রেটারী: অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারী: অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা সভাপতি: অধ্যাপক হামেদ হাসান, জেলা যুব ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী: ওবাইদুল হক এছাড়াও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

পাহাড়ি কন্যা হিসেবে খ্যাত পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি নদীগুলোতে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি। বিশেষ করে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও, বান্দরবানে নেই কোনো স্থায়ী ডুবুরি দল বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক সরঞ্জাম। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দলের আসার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

পাহাড়ি নদীগুলোর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও বিপজ্জনক। বান্দরবানের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় হলেও বর্ষাকাল কিংবা পাহাড়ি ঢলের সময় এটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তীব্র স্রোত, অধিক গভীরতা এবং নদীর তলদেশের পাথুরে গঠনের কারণে এসব নদীতে সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনে বড় বিপদ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে কেউ তলিয়ে গেলে বা নিখোঁজ হলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করাটাই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কোনো স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে ডুবুরি দলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান এবং সেখান থেকে রুমা, থানচি কিংবা রেমাক্রির মতো দুর্গম এলাকায় ডুবুরি দল পৌঁছাতে অনেক সময় ৭ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি পুরো একদিন পর্যন্ত পেরিয়ে যায়। ততক্ষণে নদীর তীব্র স্রোতে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বা অবস্থান অনেক দূরে চলে যায়, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও দুরূহ করে তোলে।

 

এছাড়া, ডুবুরি দল পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত নেমে এলে অন্ধকার, তীব্র স্রোত এবং পাথুরে তলদেশের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডুবুরি দলের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় বা পরবর্তীতে মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলেই কেবল তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ ও কষ্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পাহাড়ি নদীগুলোতে উদ্ধার কাজের জটিলতা ও বাস্তব অবস্থা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করে আসছেন।

 

তারা বলেন, “বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী অত্যন্ত খরস্রোতা এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে দুর্গম। আমাদের স্টেশনে বর্তমানে স্থায়ী কোনো ডুবুরি ইউনিট বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক স্কুবা ইকুইপমেন্ট নেই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের সাধ্যমতো উদ্ধারকর্মী পাঠিয়ে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ ও স্থানীয়দের সহায়তার ব্যবস্থা করি। তবে বিশেষায়িত ডুবুরি দলের প্রয়োজন হলে চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হয়। বান্দরবানে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংযোজন করা হলে নিখোঁজ উদ্ধারের কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। বিষয়টি আমরা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছি।”

 

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে না ওঠায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের জোরালো দাবি—দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে বান্দরবানে অবিলম্বে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত নৌযানের ব্যবস্থা করা হোক।

 

নদীতে প্রাণহানি রোধে কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার সক্ষমতা। আর কতগুলো তাজা প্রাণ ঝরলে বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে উঠবে—এখন সেটাই বান্দরবানবাসীর বড় প্রশ্ন।