সাতকানিয়ায় হাফেজ আহমদ এগ্রো ফার্ম ডাকাতি ও দখল চেষ্টার অভিযোগ, আদালতে আইনি লড়াই অব্যাহত
সাতকানিয়ায় হাফেজ আহমদ এগ্রো ফার্ম ডাকাতি ও দখল চেষ্টার অভিযোগ, আদালতে আইনি লড়াই অব্যাহত
সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মৈশামুড়া এলাকায় হাফেজ আহমদ নামের এক ব্যক্তির এগ্রো ফার্মে ডাকাতি, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মনজুরুল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় আইনি লড়াইয়ের পর আদালত ফার্মটি খুলে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জানা যায় খাগরিয়া ইউনিয়নের ৯নং মৈশামুড়া মৌজার বিএস ৪৭১ দাগের জমিতে বৈধ প্রক্রিয়ায় এগ্রো ফার্ম পরিচালনা করে আসছেন হাফেজ আহমদ। উক্ত জমির ৩ গন্ডা জায়গা হাফেজ আহমদ ও তার স্ত্রী নূরুনাহার তানিয়ার নামে রেজিস্ট্রিকৃত। এছাড়া মৃত কবির আহমদ মুন্সির ছেলে মনজুরুল ইসলামের পিতা কমির আহমদ, ও বোন কমরুনাহার, লুতফুর নাহার ও শাহানাজ পারভীনের কাছ থেকে ২০ বছরের জন্য বন্ধক নেন ১০ বছরের অগ্রিম খাজনা বাবদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করে এবং ৩০০ টাকার স্টাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জমিটি বন্ধক নেন হাফেজ আহমদ ১০ বছরের অগ্রিম শেষ হলে । চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ৪ হাজার টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগী হাফেজ আহমদের অভিযোগ করে বলেন প্রতিপক্ষ মনজুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ফার্মে লুটপাট ও দখলের চেষ্টা চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমার পরিবারকে কোণঠাসা করতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ঢাকা স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক এবং ঢাকা এআইইউবি ও বসুন্ধরায় অধ্যয়নরত হাফেজ আহমদের ছেলে ফয়সাল ও রিয়াছকেও এসব মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, মনজুরুল ইসলাম প্রতারণা করে করে হাফেজ আহমদের বিল্ডিংয়ের বিএস ৪৭৪ দাগটি নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে নেন। এর প্রতিকারে হাফেজ আহমদ সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি মিস মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ২৯৭/২৪)। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সকল ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাই করে মনজুরুল ইসলামের নামে থাকা নামজারি থেকে ৪৭৪ দাগটি বাতিল করেন এবং সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতে পুনরায় হাফেজ আহমদের নামে নামজারি ও খতিয়ান সৃজন করেন।
এদিকে প্রতিপক্ষ মনজুরুল ইসলাম এ বিষয়ে সাতকানিয়া আদালতে একটি মিস মামলা (নং- ৭৭৪/২৪, দায়ের করেছিলেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর এএমটি কোর্ট উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে হাফেজ আহমদের এগ্রো ফার্মটি খুলে দেওয়ার আদেশ দেন।
পরবর্তীতে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাফেজ আহমদ চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারী রিভিশন মামলা (নং- ৮৭৬/২৬, মিছ মামলা নং- ৭৭৪/২৪, সাতকানিয়া) দায়ের করেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাননীয় জজকোর্ট আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উক্ত মামলার কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আদেশ প্রদান করেছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন
Array