খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

পটিয়ার কচুয়াইয়ে বালুবাহী ট্রাক উল্টে আহত ২

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
পটিয়ার কচুয়াইয়ে বালুবাহী ট্রাক উল্টে আহত ২

পটিয়ার কচুয়াইয়ে বালুবাহী ট্রাক উল্টে আহত ২

প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন:

 

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভাইয়ের দীঘির পাড় এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনুমানিক ৮টার দিকে একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের নীরব সড়কে ট্রাকটি বালু নিয়ে চলাচল করছিল। হঠাৎ একটি মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ট্রাকের সামনে দৌড়ে চলে আসে। তাকে চাপা পড়া থেকে রক্ষা করতে চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ঢালে উল্টে পড়ে।

 

দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রাকটি রাস্তার পাশের নিচু স্থানে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

ঘটনার পর কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, ভাইয়ের দীঘির পাড় সড়কে ভোর ও রাতে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান:

বান্দরবান, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বান্দরবান সদর সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবসমাজের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সহযোগিতায় বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ০২ নভেম্বর (সোমবার) জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব এস এম আব্দুচ সালামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা জামায়াত আমীরের হাতে প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ৪৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ‘স্বর্ণালী’ স্মারক গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ ইসলামী বই উপহার দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুচ সালাম বলেন, “দেশ ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা ও থানচিসহ বিভিন্ন দুর্গম উপজেলার আরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দরকার। এই এলাকার সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন: সভাপতি নাছিরুল আলম, সাবেক সভাপতি  আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিটন, সাধারণ সম্পাদক: এন এ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিজভী রাহাত, অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ ইসহাক সহ অন্যান্য সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন সম্রাট, ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও জেলা বারের সভাপতি এড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, সেক্রেটারী: অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারী: অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা সভাপতি: অধ্যাপক হামেদ হাসান, জেলা যুব ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী: ওবাইদুল হক এছাড়াও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

পাহাড়ি কন্যা হিসেবে খ্যাত পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি নদীগুলোতে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি। বিশেষ করে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও, বান্দরবানে নেই কোনো স্থায়ী ডুবুরি দল বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক সরঞ্জাম। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দলের আসার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

পাহাড়ি নদীগুলোর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও বিপজ্জনক। বান্দরবানের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় হলেও বর্ষাকাল কিংবা পাহাড়ি ঢলের সময় এটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তীব্র স্রোত, অধিক গভীরতা এবং নদীর তলদেশের পাথুরে গঠনের কারণে এসব নদীতে সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনে বড় বিপদ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে কেউ তলিয়ে গেলে বা নিখোঁজ হলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করাটাই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কোনো স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে ডুবুরি দলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান এবং সেখান থেকে রুমা, থানচি কিংবা রেমাক্রির মতো দুর্গম এলাকায় ডুবুরি দল পৌঁছাতে অনেক সময় ৭ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি পুরো একদিন পর্যন্ত পেরিয়ে যায়। ততক্ষণে নদীর তীব্র স্রোতে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বা অবস্থান অনেক দূরে চলে যায়, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও দুরূহ করে তোলে।

 

এছাড়া, ডুবুরি দল পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত নেমে এলে অন্ধকার, তীব্র স্রোত এবং পাথুরে তলদেশের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডুবুরি দলের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় বা পরবর্তীতে মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলেই কেবল তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ ও কষ্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পাহাড়ি নদীগুলোতে উদ্ধার কাজের জটিলতা ও বাস্তব অবস্থা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করে আসছেন।

 

তারা বলেন, “বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী অত্যন্ত খরস্রোতা এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে দুর্গম। আমাদের স্টেশনে বর্তমানে স্থায়ী কোনো ডুবুরি ইউনিট বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক স্কুবা ইকুইপমেন্ট নেই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের সাধ্যমতো উদ্ধারকর্মী পাঠিয়ে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ ও স্থানীয়দের সহায়তার ব্যবস্থা করি। তবে বিশেষায়িত ডুবুরি দলের প্রয়োজন হলে চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হয়। বান্দরবানে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংযোজন করা হলে নিখোঁজ উদ্ধারের কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। বিষয়টি আমরা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছি।”

 

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে না ওঠায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের জোরালো দাবি—দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে বান্দরবানে অবিলম্বে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত নৌযানের ব্যবস্থা করা হোক।

 

নদীতে প্রাণহানি রোধে কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার সক্ষমতা। আর কতগুলো তাজা প্রাণ ঝরলে বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে উঠবে—এখন সেটাই বান্দরবানবাসীর বড় প্রশ্ন।