খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

অন্ধকারের যাত্রী থেকে আলোর দিশারী: শিক্ষক আল আমিনের অদম্য গল্প।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
অন্ধকারের যাত্রী থেকে আলোর দিশারী: শিক্ষক আল আমিনের অদম্য গল্প।

অন্ধকারের যাত্রী থেকে আলোর দিশারী: শিক্ষক আল আমিনের অদম্য গল্প।

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।

 

পাহাড়ি জনপদ লংগদুর প্রত্যন্ত আটারকছড়া (করল্যাছড়ি) এলাকার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক অসাধারণ মানুষের নাম সহকারী অধ্যাপক আল আমীন, যার জীবনের প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম, ধৈর্য্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।

 

আল আমীন সাহেবের শৈশব ছিল সংগ্রামের রঙে আঁকা এক জীবন্ত গল্প। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তিনি তার বাবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবনযুদ্ধের ভার বহন করেছেন। নিজের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে কখনো তিনি নিজেদের জমিতে হাড় ভাঙা পরিশ্রমকরেছেন, কখনো আবার বাবার ছোট্ট দর্জির দোকানে বসে বাবাকে সহোযোগিতা করেছেন। আল আমীন সাহেবের জীবনে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তার জীবনে এমন অনেক সকাল কেটেছে, যখন পেটে একমুঠো ভাতও জোটেনি। সকালে স্কুল কিংবা কলেজে যাওয়ার সময় মায়ের মমতামাখা সান্ত্বনা “বাবা, স্কুল থেকে এসে খেয়ো, এখন ভাত নেই” এই কথাটুকুই ছিল তাঁর পথচলার শক্তি। মায়ের কথার সেই শক্তিকে পুঁজি করে, না খেয়েই চোখে স্বপ্ন নিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন। ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে দেখতেন, ঘর এখনো শূন্য বাবা বাজার থেকে চাল আনতে পারেননি।

 

আল আমীন সাহেব অর্থভাবে কখনোই স্কুল কলেজের দুর্বল বিষয়গুলোতে বাড়তি যত্ন নিতে প্রাইভেট পড়তে পারেনি। এক কথায় বলতে গেলে তার শিক্ষাজীবন দারিদ্র্যের কঠিন বেড়াজালে আটকে থাকলেও তিনি কখনোই থেমে থাকেন নি। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে নিরবে এগিয়ে গেছেন। করল্যাছড়ি এলাকা হতে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার হেঁটে তিনি যাতায়াত করেছেন উপজেলার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল কলেজে। ক্লান্ত শরীর, শূন্য পেট আর হাজারো সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেও তাঁর চোখে ছিল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের এক অটল স্বপ্ন। তার এই নিরন্তর সংগ্রাম, ত্যাগ আর অদম্য অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে আল আমীন সাহেবের জীবন। শেষ পর্যন্ত তিনি সত্যি প্রমাণ করেছেন, অভাব নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

মানুষ সাধারণত সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে গেলে অতীত ভুলে যায়, কিন্তু আল আমীন সাহেব সেই সব মানুষদের মত নন, তিনি সত্যি আলাদা, যিনি সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েও ভুলে যাননি তাঁর অতীত শিকড়, তাঁর পথচলার প্রতিটি সংগ্রাম আর কষ্টের গল্প। “ভয়েস অব লংগদু” সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী অনলাইন কমিউনিটির পক্ষ থেকে “অনুপ্রেরণার গল্প | লংগদুর কৃতি সন্তানের পথচলা” নামক কলামে তাঁর জীবনের গল্প ধারণ করতে গিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে হয়। কোন প্রকার দ্বিধা সংকোচ ছাড়াই তিনি তার জীবন সংগ্রামের গল্প অকপটতায় বলে গিয়েছেন। এবং কথার ফাঁকে কখনো কখনো থেমে গিয়েছেন, পুরনো দিনের কথা মনে করে অশ্রু সিক্ত হয়েছেন, টিস্যুতে চোখ মুছেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি তাঁর মমতাময়ী মা এবং মাতৃতুল্য বড় বোনের কথা বলতে শুরু করেন, যাঁরা তাঁর জীবনের কঠিন সময়গুলোতে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। তখন সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে আরও হৃদয়বিদারক। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, নিরবে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে। কারণ, যাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, ত্যাগ আর দোয়া তাকে আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে তাঁরাই আজ বেঁচে নেই তাঁর সাফল্য দেখার জন্য।

 

আল আমীন সাহেব ১৯৯৩ সালে করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে তিনি করল্যাছড়ি রশিদ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হোন এবং সেখান থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করেন এবং একই বছর ভর্তি হোন লংগদু উপজেলার এক মাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল কলেজে (বর্তমানে লংগদু মডেল ডিগ্রি কলেজ) এবং সেখান থেকে ২০০৫ সালে সফলতার সাথে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০০৬-০৭ সেশনে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই তিনি ১ম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

উচ্চশিক্ষা শেষে আল আমীন সাহেব এর পথচলা এখানেই থেমে থাকেনি, বরং তার লক্ষ্য ছিল আরও বড়। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এ যোগদান করা এবং দেশের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করা। এবং সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শুরু হয় তার কঠোর পরিশ্রম ও সুদীর্ঘ প্রস্তুতি। তিনি প্রথমে ৩৪ তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করেন, প্রথম বার কাঙ্ক্ষিত সফলতার দেখা না মিললেও তিনি দমে যাননি বরং অধিক মনোবল এবং নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে ৩৫ তম বিসিএসে অংশ নিয়ে কাংখিত সাফল্য অর্জন করেন। বিসিএস এছাড়াও একই বছর তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এনবিআর, নন-ক্যাডার) এবং উপজেলা সহকারী ডাক কর্মকর্তা হিসেবেও মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এবং পরবর্তীতে পেশা হিসেবে তিনি তার স্বপ্নের বিসিএস (শিক্ষা) কে বেছে নিয়েছেন।

 

আল আমীন সাহেব বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথমে বান্দরবান সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাপ্ত হয়ে সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রামে পদায়ন হোন। বর্তমানে তিনি তার প্রিয় বিদ্যাপীঠ সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন।

 

পারিবারিক পরিচয়ে, আল আমীন অত্র উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের করল্যাছড়ি গ্রামের এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ ইউনুস সাহেব এবং মাতার নাম মরহুমা লাইলি আকতার । তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের মেঝো। ২০১১ সালে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি তাঁর মাকে হারান। মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হয়ে ওঠেন তাঁর বড় বোন, যিনি স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার তাঁকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মায়ের মতো করে ভাইয়ের সাফল্য দেখে যেতে পারেননি সেই বড় বোন, ২০১৪ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। আল আমীন সাহেব এর বাবা মোঃ ইউনুস সাহেব প্রকাশ ইউনুস খলিফা করল্যাছড়ি বাজারের একজন সুপরিচিত ও পরিশ্রমী দর্জি ছিলেন। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ওই বাজারে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে সংসার পরিচালনা করেছেন। অজপাড়া গ্রামের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন এবং সন্তানের শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পিতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ এবং মরহুমা মায়ের নিঃস্বার্থ দোয়া ও অনুপ্রেরণাই আল আমীনের জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়, যা তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

 

বর্তমানে আল আমীন সাহেব শিক্ষা জীবনের অসামান্য সাফল্য পেড়িয়ে কর্মজীবনেও কর্মস্থলের অগনিত দরিদ্র শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত ভাবে বিনা বেতনে পড়ানো, পাঠ্য পুস্তক সহায়তা সহ অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। এবং নিজ উপজেলার মানুষের কল্যাণেও তিনি সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ। লংগদু উপজেলা জুড়ে মানবতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া উপজেলার সর্বপ্রথম স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক অনলাইন কমিউনিটি ‘ভয়েস অব লংগদু’-এর উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। উপজেলার অসহায় অসুস্থ ও আর্তপীড়িত মানুষের কল্যাণে সংগঠনকে সুষ্ঠ সুন্দর ভাবে পরিচালনার লক্ষে দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা।

 

আল আমীন সাহেবের জীবনের গল্প আমাদের শেখায়, অজপাড়া গাঁ থেকে উঠে এসেও আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখা যায়, কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, আর ধৈর্য্য, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল থাকলে সফলতা একদিন আসবেই। তার এই জীবনযুদ্ধ তরুণ প্রজন্মের জন্য তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ ও ‘সুপারভাইজার’ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্থগিত নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার(২৯ জুলাই) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। লামা উপজেলার সাধারণ বাসিন্দাদের পক্ষে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা ইমন শরীফ এ অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উক্ত পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রকাশিত তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি সদস্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত বা তাদের পরিবারের সদস্য।

চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি ও ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল এবং বিরোধিতা করেছিল। এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের খবরে লামার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

অভিযোগকারী ইমন শরীফ প্রকাশিত বিতর্কিত নিয়োগ তালিকাটি অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, “বিতর্কিত ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে বাদ দিয়ে মেধাবী ও ফ্যামিলি কার্ডের যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।”

উক্ত লিখিত অভিযোগ পত্রটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় অবগতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী, ৩০০ নং বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু জেরী এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

 

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)অতিরিক্ত দায়িত্ব মনজুর আলম জানান,অভিযোগের বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ‘শুক নদী’। নদীর বুকে সমন্বিত হাঁস ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ভূমিহীন কৃষক রবিউল ইসলাম (৪৮)। রবিউল ইসলাম ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম শুক নদীর কোল ঘেঁষে ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। সেখানে তিনি ধুন্দুল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা ও কলাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করেছেন। পাশাপাশি নদীর তীরেই গড়ে তুলেছেন একটি হাঁসের খামার। জানা গেছে, নিজস্ব সঞ্চয় ও কিছু ধারদেনা মিলিয়ে এই উদ্যোগে রবিউলের সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তাঁর আশা, বছর শেষে এই হাঁসের খামার ও সবজি বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রবিউল ইসলাম বলেন, “নদী শুকিয়ে গেলে অনেকেই হতাশ হন, কিন্তু আমি একে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছি। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে আমার এই যাত্রা শুরু করি। নদীর স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করায় হাঁস পালনের খরচ যেমন কম হয়, তেমনি পলিযুক্ত উর্বর বালুমাটিতে সবজির ফলনও মেলে চমৎকার।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেলেও, ভবিষ্যতে নদীর ওপর ভাসমান শেড তৈরি করে বৃহৎ পরিসরে হাঁস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুক নদীকে কাজে লাগিয়ে রবিউল যেভাবে নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন, তা আশপাশের অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। নদীর বুকে গড়ে তোলা এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ কেবল তাঁর নিজের সংসারেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং স্থানীয় বাজারে শাকসবজির চাহিদাও অনেকাংশে মেটাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের টেকসই পরামর্শ পেলে রবিউল ইসলামের এই উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল আলম বলেন, “বর্তমানে অনেক বেকার যুবককে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আমরা তাঁদের চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রবিউল ইসলাম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন। তাছাড়া আমাদের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবও এ বিষয়ে যুবকদের স্বাবলম্বী হতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরোয়ানাভুক্ত পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে র‌্যাব অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস দল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ মোচনী বাজার এলাকায় গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১৬:৪০ ঘটিকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম (৩৮)। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রংগীখালী গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন এর ছেলে।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া থানার মাদকদ্রব্য মামলার এজাহারনামীয় আসামি। উক্ত অপরাধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক তাকে ০৫ (পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই সে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিল।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

অপরাধ দমন ও এলাকাকে নিরাপদ রাখতে র‌্যাব-১৫ এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।