কানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেহাল দশা: শিক্ষকদের নামেমাত্র উপস্থিতি, শিক্ষার্থীরাও বিমুখ, শিক্ষার মান তলানিতে।
কানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেহাল দশা: শিক্ষকদের নামেমাত্র উপস্থিতি, শিক্ষার্থীরাও বিমুখ, শিক্ষার মান তলানিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবান সদর উপজেলার কানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ যেন ভেঙে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষকদের নামেমাত্র উপস্থিতিতে অনিয়মিত শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কাজনক হারে কম উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চারপাশের অস্বাস্থ্যকর ও জরাজীর্ণ পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল- বিকাল দুই শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণীতে ৭জন, ১ম-৪জন, ২য়- ৬জন, ৩য়- ৩জন, ৪র্থ- ১জন, এবং ৫ম শ্রেণীতে ৮জন সর্বমোট ২৯ জন শিক্ষার্থী আর কাগজে-কলমে শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত অফিস করলেও শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রমে থাকেন অনিয়মিত ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত পাঠদানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর। একদিকে শিক্ষকদের নামেমাত্র উপস্থিতি, অন্যদিকে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তলানিতে ঠেকেছে। বহু অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে বিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাজীব চোধুরী, পর্যায়ক্রমে সহকারী শিক্ষক বিপ্লব চোধুরী, রাজতী তঞ্চঙ্গ্যা, রমাশ্রী দাশ, ক্যাসানু জ্যানি বাহাদুর সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো বিদ্যালয় ভবনটি এক প্রকার জরাজীর্ণ রূপ ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের চারপাশ ও প্রবেশদ্বারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। খেলার মাঠ ও আশপাশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ায় তা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবহেলার কারণেই বিদ্যালয়টির আজ এই বেহাল দশা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম জানান: এ বিষয়ে আমি অবগত হওয়ার পর পরিদর্শনে গিয়ে প্রমাণ পেয়েছি। ফলে গত ডিসেম্বর মাসে আমি প্রধান শিক্ষক রাজীব চৌধুরী বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। তারপরেও কোনো লাভ হয়নি। একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রধান শিক্ষক এর কাছ থেকে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খুব শীঘ্রই প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা থাকলেও কানাপাড়া বিদ্যালয়ে তার কোনো বালাই নেই। শিক্ষকরা সময়মতো আসেন না, আবার ঠিকমতো শ্রেণী পাঠদান ও করান না। এতে পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাজীব চোধুরী তার নিজস্ব বাগান দেখাশোনার কাজ নিয়ে সবসময় পড়ে থাকেন যার ফলে তিনি বিদ্যালয়টিতে ঠিকমতো সময় দেন না। এমন চলতে থাকলে এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।
শিক্ষার মান ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী অভিভাবকররা। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাজীব চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন
Array