খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুর:

 

বাংলাদেশ মূলত একটি গ্রামপ্রধান দেশ। “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এদেশের গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য উন্নয়নে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, তার সুতিকাগার হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, রাজধানী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তাঁরই আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ নারী শিক্ষা, কৃষি এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার রূপরেখা প্রণয়ন করছেন।

 

২. গ্রামীণ উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯৭৭-১৯৮১) ঐতিহাসিক অবদান: শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭৫ পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে তিনি ‘নব্য অর্থনৈতিক ও গ্রামীণ বিপ্লব’ এর সূচনা করেন।

 

খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি বিপ্লব: শহীদ জিয়ার সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে জনমানুষের সাথে খাল খননে নেমেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার মাইল নতুন ও পুনখননকৃত খালের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে চাল রপ্তানির গৌরব অর্জন করে।

 

পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা: গ্রামের অন্ধকার দূর করতে এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ আনতে ১৯৭৭ সালে তিনি পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড গঠন করেন। এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার ম্যাজিক টুল।

 

সবুজ বিপ্লব ও সার-বীজ বিতরণ: কৃষকদের মাঝে নামমাত্র মূল্যে এবং বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণের এক অভূতপূর্ব চেইন তৈরি করেন তিনি। কৃষি ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রামের দোরগোড়ায় নিয়ে যান।

 

হাঁস-মুরগি ও মৎস্য চাষের আধুনিকায়ন: গ্রামীণ যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষে সরকারি প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

 

৩. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ: জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্থানীয় মানুষের হাতে শাসনভার তুলে দিতে তিনি স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠন করেন।

 

স্বনির্ভর গ্রাম সরকার গঠন: ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়া ‘গ্রাম সরকার’ আইন প্রবর্তন করেন। প্রতিটি গ্রামে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ১১ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠিত হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের বিরোধ গ্রামে মীমাংসা করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সরাসরি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

 

থানা উন্নয়ন কমিটি: স্থানীয় সরকারের মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে থানা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা ব্যবস্থার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

 

পল্লী পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ঠউচ): গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চুরি-ডাকাতি রোধে তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ নিজেরাই নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়।

 

৪. গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) অবদান: শহীদ জিয়ার শাহাদাত বরণের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা কালীন গ্রামীণ উন্নয়ন ধারাকে আরও বেগবান ও আধুনিক রূপ দান করেন। নারী শিক্ষার প্রসার ও উপবৃত্তি চালু: গ্রামীণ নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করেন। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়।

 

উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থার কার্যকারিতা: ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তিনি স্থানীয় সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক করতে আইনি সংস্কার করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে উপজেলা পরিষদকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়।

 

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও ভিজিডি : গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য, বিশেষ করে কর্মহীন মৌসুমে, কাবিখা ও টেস্ট রিলিফের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। দুস্থ ও বিধবা মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে ব্যাপকভাবে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তন করা হয়।

 

গ্রামীণ সড়ক ও এলজিইডি এর বিকাশ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (খএঊউ)-কে শক্তিশালী করে দেশের প্রতিটি গ্রামকে পাকা রাস্তার নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মেগা প্রজেক্ট তাঁর আমলেই গতি পায়। এর ফলে গ্রামীণ হাট-বাজারের সাথে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা কৃষকের পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।

 

৫. আধুনিক প্রেক্ষাপট: বর্তমান গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংকট: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম রাজনৈতিক দলীয়করণ, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতি-কেন্দ্রীকরণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদগুলো আজ ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস সীমিত এবং তারা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

 

আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপরে আমলা বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (টঘঙ) অতিরিক্ত কর্তৃত্ব স্থানীয় সরকারের মূল চেতনাকে ধ্বংস করছে।

 

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব: গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ হরিলুট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় জবাবদিহিতা শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

 

৬. আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের করনীয় ও রূপরেখা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই রূপরেখায় গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

ক) স্থানীয় সরকারের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতায়ন: দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য: কেন্দ্রে ক্ষমতার স্বৈরাচারী মনোভাব দূর করতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

 

আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা: উপজেলা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউএনও বা ডিসি থাকবেন নির্বাচিত পরিষদের সহযোগী বা সচিব হিসেবে, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়।

 

খ) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও বাজেট বরাদ্দ; আলাদা স্থানীয় সরকার বাজেট: জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ (কমপক্ষে ৩০-৪০%) সরাসরি স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) অনুকূলে বরাদ্দ দিতে হবে।

 

নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা: স্থানীয় পরিষদগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজস্ব আয়ের উৎস (যেমন- হাটবাজার ইজারা, স্থানীয় কর, ল্যান্ড ট্যাক্সের অংশ) বৃদ্ধির স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা কেন্দ্রের দিকে চেয়ে না থাকে।

 

গ) গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘স্মার্ট’ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার: ডিজিটাল গ্রামীণ হাব (উরমরঃধষ জঁৎধষ ঐঁন): তারেক রহমানের ‘তারুণ্যের শক্তি’ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশমুখী হতে হবে না।

 

কৃষি-প্রযুক্তি ও কোল্ড স্টোরেজ চেইন: প্রতি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থায়নে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন করতে হবে। কৃষকরা যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের সঠিক দাম জানতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কম হয়, তার প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। [১]

 

ঘ) জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: উন্মুক্ত বাজেট ও অডিট: ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রণয়নে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ মতামতের জন্য ‘ওয়ার্ড সভা’ পুনরায় কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি খরচের হিসাব ডিজিটাল পোর্টালে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে।

 

দলীয়করণের অবসান: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে উন্মুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করবে।

 

ঙ) গ্রামীণ অবকাঠামো ও পরিবেশ রক্ষা: শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো: তারেক রহমানের অন্যতম ভিশন হলো পরিবেশ রক্ষা করে গ্রামীণ জনপদে উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

 

নদী ও জলাশয় উদ্ধার: শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খালগুলো ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৫ মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বর্তমান সরকার শহরমূখী উন্নয়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে গ্রাম ও পল্লী জনপদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার কাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের মূল অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন কাজ শুরু, ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আইসিইউ সুবিধাসহ ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।

 

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি ছিল জনমুখী ও বাস্তবসম্মত। তাঁরা ধনিক শ্রেণীর পরিবর্তে প্রান্তিক মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে, তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব এসেছে সেই ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করে কোনো রাষ্ট্র উন্নত হতে পারে না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্বই পারবে শহীদ জিয়ার ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে এবং দেশের প্রতিটি গ্রামকে একেকটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে পরিণত করতে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া, কক্সবাজার।

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ ও ‘সুপারভাইজার’ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্থগিত নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার(২৯ জুলাই) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। লামা উপজেলার সাধারণ বাসিন্দাদের পক্ষে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা ইমন শরীফ এ অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উক্ত পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রকাশিত তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি সদস্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত বা তাদের পরিবারের সদস্য।

চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি ও ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল এবং বিরোধিতা করেছিল। এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের খবরে লামার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

অভিযোগকারী ইমন শরীফ প্রকাশিত বিতর্কিত নিয়োগ তালিকাটি অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, “বিতর্কিত ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে বাদ দিয়ে মেধাবী ও ফ্যামিলি কার্ডের যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।”

উক্ত লিখিত অভিযোগ পত্রটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় অবগতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী, ৩০০ নং বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু জেরী এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

 

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)অতিরিক্ত দায়িত্ব মনজুর আলম জানান,অভিযোগের বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ‘শুক নদী’। নদীর বুকে সমন্বিত হাঁস ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ভূমিহীন কৃষক রবিউল ইসলাম (৪৮)। রবিউল ইসলাম ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম শুক নদীর কোল ঘেঁষে ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। সেখানে তিনি ধুন্দুল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা ও কলাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করেছেন। পাশাপাশি নদীর তীরেই গড়ে তুলেছেন একটি হাঁসের খামার। জানা গেছে, নিজস্ব সঞ্চয় ও কিছু ধারদেনা মিলিয়ে এই উদ্যোগে রবিউলের সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তাঁর আশা, বছর শেষে এই হাঁসের খামার ও সবজি বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রবিউল ইসলাম বলেন, “নদী শুকিয়ে গেলে অনেকেই হতাশ হন, কিন্তু আমি একে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছি। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে আমার এই যাত্রা শুরু করি। নদীর স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করায় হাঁস পালনের খরচ যেমন কম হয়, তেমনি পলিযুক্ত উর্বর বালুমাটিতে সবজির ফলনও মেলে চমৎকার।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেলেও, ভবিষ্যতে নদীর ওপর ভাসমান শেড তৈরি করে বৃহৎ পরিসরে হাঁস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুক নদীকে কাজে লাগিয়ে রবিউল যেভাবে নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন, তা আশপাশের অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। নদীর বুকে গড়ে তোলা এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ কেবল তাঁর নিজের সংসারেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং স্থানীয় বাজারে শাকসবজির চাহিদাও অনেকাংশে মেটাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের টেকসই পরামর্শ পেলে রবিউল ইসলামের এই উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল আলম বলেন, “বর্তমানে অনেক বেকার যুবককে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আমরা তাঁদের চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রবিউল ইসলাম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন। তাছাড়া আমাদের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবও এ বিষয়ে যুবকদের স্বাবলম্বী হতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরোয়ানাভুক্ত পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে র‌্যাব অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস দল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ মোচনী বাজার এলাকায় গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১৬:৪০ ঘটিকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম (৩৮)। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রংগীখালী গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন এর ছেলে।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া থানার মাদকদ্রব্য মামলার এজাহারনামীয় আসামি। উক্ত অপরাধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক তাকে ০৫ (পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই সে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিল।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

অপরাধ দমন ও এলাকাকে নিরাপদ রাখতে র‌্যাব-১৫ এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।