খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনকাল নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচারণা ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা বা তদবির রক্ষা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই স্বার্থান্বেষী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও সাবেক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

 

একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে সমালোচনা বা ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে নিয়মনীতি ও সরকারি বিধিবিধানের কারণে কোনো প্রভাবশালী মহলের আবদার বা সুপারিশ প্রত্যাখ্যাত হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নানা ধরনের প্রচারণা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রভাবশালী মহল থেকে নানা সুপারিশ এলেও ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান তা সব সময় গ্রহণ করেননি। বিশেষ করে বন্যা মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ, উপজেলা ক্রীড়া কমিটি গঠন, উন্নয়ন প্রকল্প এবং টিউবওয়েল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুপারিশের চেয়ে প্রশাসনিক নিয়মকে প্রাধান্য দেওয়ায় একটি সুবিধাভোগী মহলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

 

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার সময় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমেও বিভিন্ন পক্ষের চাপ ছিল। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নিয়ম অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণের অবস্থান নেওয়ায় প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দলীয় কর্মীদের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখেনি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পেয়ে একটি পক্ষ প্রশাসনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়। এছাড়া স্থানীয় এক সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি পরিচয়ে দুই ধাপে ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও চাল নেওয়ার পর আরও ত্রাণের বাড়তি চাহিদা প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ত্রাণ বিতরণের রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা জরুরি।

 

উপজেলা ক্রীড়া কমিটি গঠন নিয়েও স্থানীয় মহলের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিরোধ দেখা দেয়। একটি বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের প্রস্তাব প্রশাসন কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় অসন্তোষ আরও বাড়ে। পাশাপাশি, অবৈধ মাটি-বালু ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তদবির উপেক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহলটি আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

 

সাবেক প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত কিছু ব্যক্তি ও নামধারী সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব গুজব ও অপপ্রচারে অংশ নিয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও লেনদেনের তথ্য ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগকে একপেশেভাবে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া সমীচীন নয়।

 

সাতকানিয়ায় ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির জটিল সময়ে ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ভূমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিদায়লগ্নে তাঁর একটি বক্তব্য—“আমি যদি সাতকানিয়ায় না আসতাম, অনেক কিছুই আমার অজানা থেকে যেত। এমনকি একটি গোষ্ঠীর চেহারা সম্পর্কেও অজানা থেকে যেতাম”—নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও একে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখা যায় না।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এই ধারাবাহিক প্রচারণা কি গঠনমূলক সমালোচনা, নাকি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ—সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রশাসনের কোনো কার্যক্রমে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যেমন প্রমাণের সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা উচিত, তেমনি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হলেও তা জনস্বার্থেই উন্মোচন করা প্রয়োজন।

 

আবেগ বা সামাজিক মাধ্যমের গুজবের ওপর নির্ভর না করে ত্রাণ বিতরণের তালিকা, উন্নয়ন প্রকল্পের কাগজপত্র, ক্রীড়া কমিটির প্রস্তাব এবং প্রশাসনিক আদেশের মতো দালিলিক প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটন করাই এখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান:

বান্দরবান, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বান্দরবান সদর সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবসমাজের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সহযোগিতায় বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ০২ নভেম্বর (সোমবার) জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব এস এম আব্দুচ সালামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা জামায়াত আমীরের হাতে প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ৪৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ‘স্বর্ণালী’ স্মারক গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ ইসলামী বই উপহার দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুচ সালাম বলেন, “দেশ ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা ও থানচিসহ বিভিন্ন দুর্গম উপজেলার আরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দরকার। এই এলাকার সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন: সভাপতি নাছিরুল আলম, সাবেক সভাপতি  আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিটন, সাধারণ সম্পাদক: এন এ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিজভী রাহাত, অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ ইসহাক সহ অন্যান্য সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন সম্রাট, ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও জেলা বারের সভাপতি এড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, সেক্রেটারী: অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারী: অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা সভাপতি: অধ্যাপক হামেদ হাসান, জেলা যুব ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী: ওবাইদুল হক এছাড়াও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় সাঙ্গু-মাতামুহুরীতে প্রাণহানি: বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

পাহাড়ি কন্যা হিসেবে খ্যাত পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি নদীগুলোতে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি। বিশেষ করে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও, বান্দরবানে নেই কোনো স্থায়ী ডুবুরি দল বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক সরঞ্জাম। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দলের আসার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

পাহাড়ি নদীগুলোর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও বিপজ্জনক। বান্দরবানের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় হলেও বর্ষাকাল কিংবা পাহাড়ি ঢলের সময় এটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তীব্র স্রোত, অধিক গভীরতা এবং নদীর তলদেশের পাথুরে গঠনের কারণে এসব নদীতে সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনে বড় বিপদ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে কেউ তলিয়ে গেলে বা নিখোঁজ হলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করাটাই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কোনো স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট না থাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে ডুবুরি দলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান এবং সেখান থেকে রুমা, থানচি কিংবা রেমাক্রির মতো দুর্গম এলাকায় ডুবুরি দল পৌঁছাতে অনেক সময় ৭ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি পুরো একদিন পর্যন্ত পেরিয়ে যায়। ততক্ষণে নদীর তীব্র স্রোতে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বা অবস্থান অনেক দূরে চলে যায়, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও দুরূহ করে তোলে।

 

এছাড়া, ডুবুরি দল পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত নেমে এলে অন্ধকার, তীব্র স্রোত এবং পাথুরে তলদেশের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডুবুরি দলের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় বা পরবর্তীতে মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলেই কেবল তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ ও কষ্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পাহাড়ি নদীগুলোতে উদ্ধার কাজের জটিলতা ও বাস্তব অবস্থা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করে আসছেন।

 

তারা বলেন, “বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী অত্যন্ত খরস্রোতা এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে দুর্গম। আমাদের স্টেশনে বর্তমানে স্থায়ী কোনো ডুবুরি ইউনিট বা পানির নিচে অনুসন্ধানের আধুনিক স্কুবা ইকুইপমেন্ট নেই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের সাধ্যমতো উদ্ধারকর্মী পাঠিয়ে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ ও স্থানীয়দের সহায়তার ব্যবস্থা করি। তবে বিশেষায়িত ডুবুরি দলের প্রয়োজন হলে চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হয়। বান্দরবানে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংযোজন করা হলে নিখোঁজ উদ্ধারের কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। বিষয়টি আমরা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছি।”

 

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে না ওঠায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের জোরালো দাবি—দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে বান্দরবানে অবিলম্বে একটি স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত নৌযানের ব্যবস্থা করা হোক।

 

নদীতে প্রাণহানি রোধে কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার সক্ষমতা। আর কতগুলো তাজা প্রাণ ঝরলে বান্দরবানে স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট গড়ে উঠবে—এখন সেটাই বান্দরবানবাসীর বড় প্রশ্ন।