খুঁজুন
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

বান্দরবানে অকেজো জয়িতা ভবন: স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ নারী উদ্যোক্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবান শহরের প্রবেশমুখে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন পাঁচতলা ‘জয়িতা ভবন’ নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের বিপণিবিতান হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত এ ভবনটি আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজও চালু হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরই মধ্যে ভবনটি সংস্কার ও চালুর জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কার কাজ।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটি নির্মাণ করে। পাঁচতলা এই ভবনে রয়েছে ৪৫টি দোকান, দুটি ভিআইপি কক্ষ, একটি ফুড কোর্ট, কিডস কর্নারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বান্দরবানের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক বিপণিবিতান গড়ে তোলা, যেখানে তারা নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পর্যটননির্ভর এই জেলায় স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।

 

কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক জটিলতা, দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি এখন গরু-ছাগলের বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে। রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদেরও আনাগোনা রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশা বলেন, “বছরের পর বছর ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে। সরকারি এত বড় একটি সম্পদ এভাবে পড়ে থাকা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত চালু করলে নারী উদ্যোক্তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি ভবনটিও সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে।”

 

আরেক বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, “এত টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছে না। এটি দ্রুত চালু করে নারী উদ্যোক্তাদের হাতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।”

 

গুংগুরু পাড়া উপজাতীয় মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি লাক্রাই খেয়াং বলেন, “পার্বত্য এলাকার অনেক নারী নিজস্ব হস্তশিল্প, তাঁতের কাপড়, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু বিক্রির জন্য স্থায়ী কোনো জায়গা নেই। জয়িতা ভবন চালু হলে এসব নারী স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ পাবেন।”

 

লেমুঝিড়ি আগাপাড়া মহিলা সমিতির সভাপতি বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য এই ভবনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। দীর্ঘদিনেও চালু না হওয়ায় নারী উদ্যোক্তারা হতাশ।”

 

জয় একতা মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি উম্মে কুলসুম খুখী (সাথী) বলেন, “জয়িতা ভবনটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ ছিল। কিন্তু আট বছর ধরে ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা হতাশ। বান্দরবানের অসংখ্য নারী নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প, তাঁতের কাপড়, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির জন্য একটি স্থায়ী বিপণিবিতানের অপেক্ষায় আছেন। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে ভবনটি চালু করা হলে নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ পাবেন এবং জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

 

বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, “পর্যটকদের কাছে স্থানীয় নারীদের তৈরি পণ্য তুলে ধরার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হতে পারত। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় প্রকল্পটি এখন অচল হয়ে আছে।”

 

বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জয়িতা ভবন দ্রুত চালু হলে জেলার শত শত নারী উদ্যোক্তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলায় নিবন্ধিত অন্তত ৬৪টি মহিলা সমিতির প্রায় দুই হাজার নারী উদ্যোক্তা একটি স্থায়ী বিপণিবিতানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন মেলা বা অস্থায়ী স্টলে পণ্য বিক্রি করেন। স্থায়ী বিপণিবিতান চালু হলে তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে ভবনটি সংস্কার ও চালুর জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রায় দেড় কোটি টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত। তবে বরাদ্দ অনুমোদনের পরও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

 

এ বিষয়ে জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন,তিনি বলেন জয়িতা ভবন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নারী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিপণিবিতানটি পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক জয়িতা ভবন পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জয়িতা ভবন চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

 

তিনি আরও বলেন,এটি চালু হলে বান্দরবানের নারী উদ্যোক্তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও এগিয়ে যাবে।”

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত জয়িতা ভবন চালু করা হলে শুধু নারী উদ্যোক্তারাই নয়, পর্যটননির্ভর বান্দরবানের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনাটি আর অবহেলায় পড়ে না থেকে নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন জেলার সর্বস্তরের মানুষের।

বান্দরবানে আন্তাহা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে আন্তাহা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

বান্দরবানে আন্তাহা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান:

বান্দরবানের আন্তাহা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ই অক্টোবর (শনিবার) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজ ম্যা মা চিং-এর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সদস্য চ নু মং মার্মা।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রতিনিধিরা এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মানোন্নয়নে জেলা পরিষদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরিষদের বক্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের এ ধরণের সহায়ক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মার্মা এবং এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উদ্বোধন শেষে বিহারের সার্বিক সাফল্য এবং এলাকাবাসীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

লামায় মিনি-বার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক লাইনঝিরি একাদশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
লামায় মিনি-বার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক লাইনঝিরি একাদশ

লামায় মিনি-বার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক লাইনঝিরি একাদশ

মোহাম্মদ আলমগীর লামা (বান্দরবান ) প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনঝিরিতে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মিনি-বার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হইয়াছে। ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলকে পরাজিত করিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করিয়াছে স্বাগতিক লাইনঝিরি একাদশ।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় লাইনঝিরি মাঠে বহুল প্রতীক্ষিত এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। লাইনঝিরি ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলাকে কেন্দ্র করিয়া স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, যুবসমাজ ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।

 

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউসুফ আলী।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ করিম এলএলবি, লামাসাধারণ সম্পাদক আমিনুর ইসলাম খন্দকার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চান মিয়া, লামা পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুমন, সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. জামাল।

 

খেলার শুরু হইতেই উভয় দলের খেলোয়াড়েরা জয়ের লক্ষ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। মাঠজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে ফাইনাল ম্যাচটি প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হইয়া ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে পরাজিত করিয়া স্বাগতিক লাইনঝিরি একাদশ বিজয়ের মুকুট অর্জন করে।

 

আয়োজকেরা জানান, যুবসমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় হইতে দূরে রাখিয়া সুস্থ বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়িয়া তুলিবার লক্ষ্যেই এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে।

 

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করেন, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করিবার পাশাপাশি এলাকায় সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় করিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিবে।

বৈধ আবাসন ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে বিএলডিএর আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
বৈধ আবাসন ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে বিএলডিএর আহ্বান

বৈধ আবাসন ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে বিএলডিএর আহ্বান

নিউজ ডেস্ক

পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অনুমোদনহীনভাবে জমি কেনাবেচা ও প্লট বরাদ্দের ফলে সাধারণ ক্রেতারা আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ।

 

গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিএলডিএর সচিব এ কে এম নওশেরুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বাচল ও এর আশপাশে পরিচালিত চারটি আবাসন প্রকল্পকে অনুমোদনহীন ও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো—ওয়েল কেয়ার হাউজিং, লন্ডন হাউজিং, এলেস্ট টাউন ও আনন্দ হাউজিং।

 

বিএলডিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যথাযথ অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই এসব এলাকায় কিছু আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এসব প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি কেনাবেচা, প্লট বরাদ্দ এবং অপরিকল্পিত ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

 

সংগঠনটির মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম সরকারের পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী বৈধ ও নিবন্ধিত আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে এবং তাদের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিএলডিএ।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে প্লট বিক্রি ও বরাদ্দ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈধ আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি এবং পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদারকি জোরদার করা।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আবাসন খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিএলডিএ জানায়, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত আবাসন খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা দিতে সংগঠনটি প্রস্তুত রয়েছে।