খুঁজুন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পাঁচটি উপজেলার ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারীর প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে।

 

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। লামা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ রুমা উপজেলায় সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাঁচ উপজেলায় মোট ১০০ অসচ্ছল নারী এ সহায়তা পেয়েছেন।

 

সম্প্রতি রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পর্বের অনুষ্ঠান। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়াপ্রধান ও বিএনপির নেতারা।

 

পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভাব-অনটনের মধ্যেও অনেক নারী সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়াকে নতুন আয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ে বেড়ে ওঠা নাইউচিং মার্মাও তাঁদের একজন। ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারানো নাইউচিং অনাথ আশ্রমেই পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণের পর সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

 

নাইউচিং মার্মা বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরও বাড়িয়ে দিল।’

 

একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। তাঁর বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের ব্যয় চালানোর পাশাপাশি চাময়া বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। নতুন সেলাই মেশিন তাঁর জন্য আয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।

 

চাময়া ম্রো বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

 

রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি।

 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকার অসচ্ছল নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

 

বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

মোহাম্মদ আবুল বাশার সাইফুল ক্রাইম রিপোর্টার

 

বাংলাদশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বন্দর শাখার আয়োজনে কারাবন্দী সাংবাদিক বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি নূরুজ্জামান মোল্লার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ১০ টায় ১নং খেয়াঘাটে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংগঠনের সভাপতি এস এম শাহীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জি, কে রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের(ডিইউজে)সদস্য ও বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বন্দর থানা শাখার সহ-সভাপতি, আবুল বাশার সাইফুল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর এ আজাদ, অর্থ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু মোর্শেদ,

 

বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি অজিত দাস প্রমুখ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ সভাপতি মান্নান খান বাদল, দপ্তর সম্পাদক রেদোয়ান হোসেন পাভেল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সহ সভাপতি মনির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিউলী আক্তার, মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াবুর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ উজ্জল সরকার, বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য ইমদাদুল হক মিলন, কামরুল হাসান রিমন, সাংবাদিক মনির হোসেন, কামরুন নাহার তিশা, শান্তা মনি সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

 

কারাবন্দী সাংবাদিক নুরুজ্জামানের অনতি বিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বক্তারা বলেন, মামলা হামলা দিয়ে কখনোই গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব নয়।

 

পূর্ববর্তী সরকারের দেখানো পথে হাটতে শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এভাবে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে দেশের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে চরম মূল্য দিতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা দ্রুত কারাবন্দি সাংবাদিক নুরুজ্জামান মোল্লাকে নিঃশর্ত মুক্তিও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সাথে সাজানো মামলার নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সহকর্মীর বিরুদ্ধে দাঁড় করা মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবান সদরে ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা ও সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান দোকানদার বিরিয়ানি ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, রাতে আঁধারে একদল লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়। তার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বিরিয়ানি দোকানদার আব্দুল ওয়াহিদ, মো. বোরহান ও মো. রাসেল, চায়ের দোকানদার সোহেল রানা। জসিম উদ্দিনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

মোঃ জসিম উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের সাকিব এন্ড ব্রাদার্স এর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়: মোঃ জসিম উদ্দিন রাতে বাড়িতে সুস্থভাবে প্রবেশ করেন ৩:৪৬ মিনিটে তবে প্রশ্ন থেকেই যায় যদি তার উপর ৩:৪০ মিনিটে জেলা সদরের শিশু পার্কের সামনে ৬-৭ জন মিলে দলবদ্ধ ভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয় তবে তিনি কিভাবে সুস্থ ভাবে নিজেই নিজের গাড়ি চালিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন? সেই প্রশ্ন উত্তর ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনমনে।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান বিরিয়ানির দোকানদার এবং অভিযোগের বাদি মোঃ জসিম উদ্দিন এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি অভিযোগের বিবাদী ওয়াহিদ এর সঙ্গে ১-২ মাস পূর্বে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই সেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে তিনি ঘটনার যে ৬-৭ জন দলবদ্ধ ভাবে তাকে অতর্কিত হামলা করেছেন তাদের মধ্যে তিনি শুধু ৪ জনের নামে অভিযোগ করেছেন পাশাপাশি বাকিদের অজ্ঞাত ব্যাক্তি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এবং যেদিন ৬-৭জন মিলে তার উপর অতর্কিত হামলার চালায় সেদিন অভিযোগের ৪ জন‌‌ বিবাদী কারো সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা কোনো প্রকার বাকবিতন্ডায় জড়াননি বলে জানিয়েছেন মোঃ জসিম। পাশাপাশি তারা সবাই বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের পার্শবর্তী ভাসমান দোকানদার।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ইমানুয়েল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বাসিং মার্মা কে রিপোর্ট দেখালে তিনি আঘাতটি অনেক পুরোনো বলে ধারণা করছেন তবে এক্সরের কপি পেলে এ বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতো।

 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শবর্তী ভাসমান এক দোকানদার জানান: মোঃ ওয়াহিদ এখানে ৮-১০ বছর যাবত ব্যাবসা করছেন। তিনি কোনোভাবেই এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন না। লোভী ব্যাবসায়ী মোঃ জসিম উদ্দিন একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য তিনি মোঃ ওয়াহিদ ও অন্য ৩ জনের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন আমি এর তীব্র নিন্দা ও দ্রুত সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, মো. জসিম উদ্দিন এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসা করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগের নাটক সাজিয়েছেন। অভিযুক্তরা জানান, তারা দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ওই এলাকায় নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু লোভী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন নিজের একক আধিপত্য বিস্তার ও একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন এবং হয়রানি করছেন।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান: প্রাথমিক ভাবে মোঃ জসিম উদ্দিন তার উপর অতর্কিত হামলার বিষয়ে আমাকে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমি ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি এবং আইনগত ভাবে ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়?

ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়?

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিতর্ক যেন আবারও ফিরে এসেছে একটি প্রতীকী জায়গায়—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায়।

 

সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকসুর আর্কাইভটি খুলে দেওয়া হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন স্থান পায়। এরপরই শুরু হয় প্রতিবাদ। ১৪ সেপ্টেম্বর এক সাবেক শিক্ষার্থী জিন্নাহর দুটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। পরদিন একদল শিক্ষার্থী ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি রেখে প্রতিবাদ করেন।

 

ঘটনাটি নিছক একটি ছবি রাখা বা সরানোর প্রশ্ন নয়। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ইতিহাসের বিতর্কিত চরিত্রদের কি ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখানো হবে, নাকি তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাদ দেওয়া হবে?

 

ইতিহাসের নথি মুছে ফেলার মাধ্যমে ইতিহাস বদলায় না। বরং একটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে বোঝার জন্য তার বক্তব্য, কর্মকাণ্ড, সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হয়।

 

জিন্নাহর ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার প্রশ্ন তার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। কারণ তিনি ১৯৪৮ সালেই মারা যান। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রটি কেমন হবে—বিশেষ করে ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে—তার অবস্থান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা। প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি। একই বছর মার্চে ঢাকায় এসে জিন্নাহ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর এই অবস্থানের প্রতিবাদ করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষার্থীরা। (The Daily Star)

 

এখানে একটি ঐতিহাসিক বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। ১৯৪৮ সালের ভাষার দাবি পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল না। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যেই বাংলার স্বীকৃতি চেয়েছিলেন। ছাত্রসমাজের দাবিও ছিল ভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।

 

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দাবি বিস্তৃত হয়েছে। ভাষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত বাঙালির রাজনৈতিক সংগ্রাম স্বাধীনতার দাবিতে পৌঁছায়।

 

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসও ১৯৫২ সালে শুরু হয়নি। ১৯৪৭-৪৮ সাল থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তমদ্দুন মজলিশ, ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা শুরু হয়। সভা, মিছিল, ধর্মঘট, গ্রেপ্তার ও প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় আন্দোলন ক্রমে শক্তিশালী হয়। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। এই ধারাবাহিকতাই পরবর্তী সময়ে বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

 

অতএব, ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি থাকলে শুধু তাঁর ছবি রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর ভাষানীতি, ১৯৪৮ সালের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিক্রিয়ার নথিও সেখানে থাকা উচিত। একইভাবে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামের দলিলও থাকা দরকার।

 

একই কথা প্রযোজ্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও।

 

১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা। দলটির তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের কয়েকজন নেতার ভূমিকা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোতেও আলোচিত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছে।

 

তবে এখানে ব্যক্তি, সংগঠন এবং নির্দিষ্ট সময়ের ভূমিকা আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির ছবি একটি আর্কাইভে রাখা মানেই তার সব কর্মকাণ্ডের সমর্থন নয়। বরং ঐতিহাসিক সংগ্রহশালার কাজ হওয়া উচিত—কেন তিনি বা সংগঠনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, কোন অবস্থান নিয়েছিল এবং সেই অবস্থানের পরিণতি কী হয়েছিল—তার প্রমাণ হাজির করা।

 

গোলাম আযমের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭১ সালের অবস্থান এবং স্বাধীনতার পরবর্তী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব বিষয়কে বাদ দিলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ হবে; আবার কেবল একটি প্রতিক্রিয়াশীল প্রতীকে পরিণত করলেও ইতিহাসের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।

 

জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে—এ তথ্যও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সামনে এসেছে। দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দলের ভেতরে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে এ বিষয়ে একটি খসড়া বিবৃতিও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

 

এই তথ্যও ইতিহাসের অংশ। অর্থাৎ ইতিহাস শুধু বাইরের সমালোচনা দিয়ে তৈরি হয় না; একটি সংগঠনের ভেতরের আত্মসমালোচনা, মতবিরোধ এবং সিদ্ধান্তহীনতার নথিও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

 

সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতাও এই আলোচনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৮টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। ভিপি, জিএস ও এজিএস পদেও তাদের প্রার্থীরা জয়ী হন।

 

এই নির্বাচনী ফল বর্তমান ছাত্ররাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। কিন্তু কোনো নির্বাচনী ফলাফল অতীতের ইতিহাসকে বাতিল করে না। একইভাবে অতীতের কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের প্রত্যেক সদস্যের অবস্থান নির্ধারণ করাও সঠিক নয়।

 

তরুণদের কী ভাবতে হবে, কাকে সমর্থন করতে হবে কিংবা কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তা বলে দেওয়ার চেয়ে তাদের সামনে তথ্য ও নথি তুলে দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

তারা জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের বক্তব্য পড়ুক। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব পড়ুক। ভাষা আন্দোলনের নথি ও সে সময়ের সংবাদপত্র দেখুক। ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকাশিত বিবৃতি ও প্রচারপত্র পড়ুক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় পড়ুক। আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথায় জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের বিবরণও দেখুক। এরপর তারা নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তুলুক এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছাক।

 

ইতিহাসের নথি যত বেশি মানুষের সামনে থাকবে, ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার সুযোগ তত কমবে।

 

এখানেই একটি জাদুঘর বা ঐতিহাসিক আর্কাইভের মূল দায়িত্ব। কোনো সংগ্রহশালা কোনো পক্ষের প্রচারমঞ্চ নয়। আবার কোনো পক্ষের ইতিহাস মুছে ফেলার জায়গাও নয়। সেখানে থাকা উচিত দলিল, ছবি, সংবাদপত্র, বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাপ্রবাহ—যাতে দর্শক নিজেই একটি সময়কে বুঝতে পারেন।

 

ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি থাকবে কি না—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ছবি থাকলে তার পাশে ইতিহাসটিও থাকবে কি না।

 

জিন্নাহ থাকলে তাঁর ভাষানীতির ইতিহাস থাকবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত থাকলে তাঁর প্রস্তাব থাকবে। ভাষা আন্দোলনের নথি থাকবে। ২১ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণের ঘটনাও থাকবে। এরপর আসবে ছয় দফা, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ার ঘটনা এবং ১৯৭১ সালের মার্চের সামরিক অভিযান।

 

থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। থাকবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ভূমিকা। যারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, তাদের ভূমিকা থাকবে; যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের অবস্থানও থাকবে। রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের ভূমিকা নিয়ে যে নথি রয়েছে, সেগুলোও থাকবে।

 

কারণ ইতিহাসকে পছন্দমতো বেছে নেওয়া যায় না।

 

বাংলাদেশের জন্ম কোনো একটি ছবি, কোনো একটি ভাষণ কিংবা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের ফল নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের পরিণতি। ভাষার অধিকার থেকে রাজনৈতিক অধিকার, স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার সংগ্রাম—এই দীর্ঘ পথের প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।

 

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকতে পারে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও থাকতে পারে। নতুন প্রজন্ম পাকিস্তানের সাহিত্য, সংগীত, সংস্কৃতি কিংবা অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে। এসবের সঙ্গে ১৯৭১ সালের ইতিহাস অস্বীকার করার কোনো প্রয়োজন নেই।

 

রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া আর ইতিহাস ভুলে যাওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।

 

বরং অতীত সম্পর্কে সৎ থাকা একটি পরিণত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে। কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজন যেমন আছে, তেমনি ইতিহাসের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রয়োজনও আছে।

 

ডাকসুর সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাই শুধু ছবি ছেঁড়া বা ছবি পদদলিত করার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতর দিকটি আড়ালে থেকে যাবে। এটি আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্নও রাখে—আমরা কি ইতিহাসকে আবেগ দিয়ে দেখব, নাকি দলিল দিয়ে বুঝব?

 

ছবি ছিঁড়ে ফেলা ইতিহাসের সমাধান নয়। আবার বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির ছবি রেখে তার রাজনৈতিক ভূমিকা গোপন করাও ইতিহাসচর্চা নয়।

 

ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো ইতিহাসের পূর্ণ নথি।

 

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। বাঙালির রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রাম হয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে, বিপক্ষে কিংবা ভিন্ন অবস্থানে ছিলেন—সেসব অবস্থানেরও নথি রয়েছে।

 

এই সবকিছু মিলেই বাংলাদেশের ইতিহাস।

 

কোনো ছবি সেই ইতিহাস বদলাতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক স্লোগানও পারে না। কূটনৈতিক সম্পর্কও পারে না।

 

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক হোক। প্রশ্ন উঠুক। পুরোনো নথি নতুন প্রজন্ম আবার পড়ুক। ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসুক। কিন্তু প্রমাণিত ঘটনাকে বাদ দিয়ে নতুন ইতিহাস নির্মাণের চেষ্টা যেন না হয়।

 

কারণ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস কোনো দেয়ালে ঝোলানো ছবিতে লেখা হয়নি।

 

সেই ইতিহাস লেখা হয়েছে মানুষের ভাষার অধিকারের সংগ্রামে, রাজনৈতিক আন্দোলনে, ভোটে, রক্তে, যুদ্ধে এবং আত্মত্যাগে।