খুঁজুন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

Bare-Knuckle Boxing-এর আগে দুই ফাইটারের মুখোমুখি অবস্থান, প্রেস ব্রিফিংয়ে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
Bare-Knuckle Boxing-এর আগে দুই ফাইটারের মুখোমুখি অবস্থান, প্রেস ব্রিফিংয়ে উত্তেজনা

Bare-Knuckle Boxing-এর আগে দুই ফাইটারের মুখোমুখি অবস্থান, প্রেস ব্রিফিংয়ে উত্তেজনা

স্পোর্টস ডেস্ক

 

বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টস অঙ্গনে নতুন এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো রাজধানী। সাধারণ প্রেস ব্রিফিংয়ের চেনা আয়োজনের বাইরে গিয়ে এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন আন্তর্জাতিক ফাইটাররা। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি জোড়ায় জোড়ায় বক্সিং ভঙ্গিতে নিজেদের পরিচয়ও তুলে ধরলেন তাঁরা। ফলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মঞ্চটিই যেন কিছুক্ষণের জন্য পরিণত হলো ছোট্ট এক ফাইটিং অ্যারেনায়।

 

আগামীকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর এরিনায় অনুষ্ঠিত হবে Zulcan Fighting Championship (ZFC)-এর দ্বিতীয় আসর—‘ZFC 2: Pride of Bangladesh’। এই আয়োজনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ৩ নম্বর হল ‘রাজদর্শন’-এ অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী প্রেস ব্রিফিং ও অফিসিয়াল ওয়েই-ইন।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে ZFC কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অংশ নেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ফাইটাররা। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন তাঁরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া Bare-Knuckle Boxing নিয়ে ছিল সাংবাদিকদের ব্যাপক আগ্রহ।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে ফাইটারদের জোড়ায় জোড়ায় দাঁড় করিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নিজেদের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে বক্সিংয়ের প্রস্তুতিমূলক ভঙ্গি প্রদর্শন করেন তাঁরা। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবেশ—প্রেস ব্রিফিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে ফুটে ওঠে রিংয়ের প্রতিযোগিতামূলক আবহ। উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের মধ্যেও তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ।

 

এবারের ZFC আসরের অন্যতম আলোচিত আকর্ষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজন হতে যাওয়া Bare-Knuckle Boxing বাউট। তিন রাউন্ডের এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ফাইটার Will Chope এবং ইরানের Mostafa Ashouri।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে এই লড়াই নিয়ে তাঁদের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। Bare-Knuckle Boxing বলতে কী বোঝায়, এই ফরম্যাটের বিশেষত্ব কী এবং বাংলাদেশে প্রথমবার এমন লড়াই আয়োজনের গুরুত্ব কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Will Chope-কে প্রশ্ন করা হয়, তাঁকে বাংলাদেশে এই লড়াইয়ে অংশ নিতে কী অনুপ্রাণিত করেছে। অন্যদিকে Mostafa Ashouri-র কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রতিপক্ষকে নিয়ে তাঁর প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা।

 

ZFC 2-এর মেইন ইভেন্টে WMO Asia Muay Thai Title-এর জন্য পাঁচ রাউন্ডের লড়াইয়ে বাংলাদেশের Masjedul Reza Omeo মুখোমুখি হবেন থাইল্যান্ডের Thanapat Titham-এর।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে ওমিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়, শক্তিশালী থাই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এশিয়ান শিরোপা জয়ের ব্যাপারে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী। ঘরের মাটিতে আন্তর্জাতিক শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে তাঁর প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

 

অন্যদিকে কো-মেইন ইভেন্টে ZFC Boxing Title-এর জন্য ছয় রাউন্ডে লড়বেন বাংলাদেশের Sura Krishna Chakma ও ইন্দোনেশিয়ার Kundimang। দীর্ঘ বিরতির পর রিংয়ে ফেরা সুরার প্রস্তুতি, শারীরিক অবস্থা ও লড়াই নিয়ে প্রত্যাশা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

 

প্রো এমএমএতে বাংলাদেশের Manjoor Alam লড়বেন ইন্দোনেশিয়ার Filipus Rangga-র বিপক্ষে। প্রেস ব্রিফিংয়ে মঞ্জুরের কাছে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে আরও উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়েও তাঁকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

 

এ ছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ফাইটারদের প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এবং ZFC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হয়।

 

ZFC 2-এ বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মালয়েশিয়ার ফাইটাররা মোট ১১টি বাউটে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি শিরোপার লড়াই।

 

ZFC Muay Thai Title-এর জন্য লড়বেন বাংলাদেশের Muhammed Rashed ও ইন্দোনেশিয়ার Harry Hutagalong। আরেকটি ZFC Boxing Title বাউটে সিঙ্গাপুরের Sean Rafael Sanny মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের Sirajul Rabbi-র।

 

এ ছাড়া মুয়াই থাইয়ে দেশীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন Shadman Sakif ও Mahedi Hassan। প্রো এমএমএতে থাকছে Manjoor Alam বনাম Filipus Rangga।

 

নারী পেশাদার বক্সিংয়ে ছয় রাউন্ডের লড়াইয়ে বাংলাদেশের Sanjida Jannat-এর প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার Meredy Michael। পেশাদার বক্সিংয়ে Rakib Hossain লড়বেন ইন্দোনেশিয়ার Dedy Imprax-এর বিপক্ষে। একই বিভাগে সিঙ্গাপুরের Donovan McIntyre মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের Ganadan Chakma-র।

 

কার্ডের শুরু হবে নারী সেমি-প্রো মুয়াই থাইয়ের লড়াই দিয়ে। সেখানে মুখোমুখি হবেন Gazi Arnaz ও Shampa Islam।

 

ZFC-এর আয়োজকদের মতে, এই চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য শুধু ফাইট আয়োজন করা নয়। আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের ফাইটারদের ঘরের মাটিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করা, পেশাদার কমব্যাট স্পোর্টসের বিকাশ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো ফাইটার তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ZFC 1: The Takeover। এবার দ্বিতীয় আসরের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর এরিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি ফাইটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

 

শুক্রবারের মূল লড়াইয়ের আগে বৃহস্পতিবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি অংশগ্রহণ, প্রশ্নোত্তর এবং প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে বক্সিং ভঙ্গিতে পরিচয় প্রদর্শনের আয়োজনটি ZFC 2-কে ঘিরে আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

 

আগামীকাল জুলকান ইনডোর এরিনায় রিংয়ে সেই উত্তেজনারই চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটবে।

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

মোহাম্মদ আবুল বাশার সাইফুল ক্রাইম রিপোর্টার

 

বাংলাদশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বন্দর শাখার আয়োজনে কারাবন্দী সাংবাদিক বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি নূরুজ্জামান মোল্লার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ১০ টায় ১নং খেয়াঘাটে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংগঠনের সভাপতি এস এম শাহীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জি, কে রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের(ডিইউজে)সদস্য ও বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বন্দর থানা শাখার সহ-সভাপতি, আবুল বাশার সাইফুল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর এ আজাদ, অর্থ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু মোর্শেদ,

 

বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি অজিত দাস প্রমুখ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ সভাপতি মান্নান খান বাদল, দপ্তর সম্পাদক রেদোয়ান হোসেন পাভেল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সহ সভাপতি মনির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিউলী আক্তার, মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াবুর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ উজ্জল সরকার, বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য ইমদাদুল হক মিলন, কামরুল হাসান রিমন, সাংবাদিক মনির হোসেন, কামরুন নাহার তিশা, শান্তা মনি সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

 

কারাবন্দী সাংবাদিক নুরুজ্জামানের অনতি বিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বক্তারা বলেন, মামলা হামলা দিয়ে কখনোই গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব নয়।

 

পূর্ববর্তী সরকারের দেখানো পথে হাটতে শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এভাবে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে দেশের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে চরম মূল্য দিতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা দ্রুত কারাবন্দি সাংবাদিক নুরুজ্জামান মোল্লাকে নিঃশর্ত মুক্তিও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সাথে সাজানো মামলার নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সহকর্মীর বিরুদ্ধে দাঁড় করা মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পাঁচটি উপজেলার ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারীর প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে।

 

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। লামা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ রুমা উপজেলায় সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাঁচ উপজেলায় মোট ১০০ অসচ্ছল নারী এ সহায়তা পেয়েছেন।

 

সম্প্রতি রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পর্বের অনুষ্ঠান। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়াপ্রধান ও বিএনপির নেতারা।

 

পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভাব-অনটনের মধ্যেও অনেক নারী সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়াকে নতুন আয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ে বেড়ে ওঠা নাইউচিং মার্মাও তাঁদের একজন। ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারানো নাইউচিং অনাথ আশ্রমেই পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণের পর সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

 

নাইউচিং মার্মা বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরও বাড়িয়ে দিল।’

 

একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। তাঁর বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের ব্যয় চালানোর পাশাপাশি চাময়া বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। নতুন সেলাই মেশিন তাঁর জন্য আয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।

 

চাময়া ম্রো বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

 

রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি।

 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকার অসচ্ছল নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

 

বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবান সদরে ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা ও সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান দোকানদার বিরিয়ানি ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, রাতে আঁধারে একদল লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়। তার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বিরিয়ানি দোকানদার আব্দুল ওয়াহিদ, মো. বোরহান ও মো. রাসেল, চায়ের দোকানদার সোহেল রানা। জসিম উদ্দিনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

মোঃ জসিম উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের সাকিব এন্ড ব্রাদার্স এর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়: মোঃ জসিম উদ্দিন রাতে বাড়িতে সুস্থভাবে প্রবেশ করেন ৩:৪৬ মিনিটে তবে প্রশ্ন থেকেই যায় যদি তার উপর ৩:৪০ মিনিটে জেলা সদরের শিশু পার্কের সামনে ৬-৭ জন মিলে দলবদ্ধ ভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয় তবে তিনি কিভাবে সুস্থ ভাবে নিজেই নিজের গাড়ি চালিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন? সেই প্রশ্ন উত্তর ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনমনে।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান বিরিয়ানির দোকানদার এবং অভিযোগের বাদি মোঃ জসিম উদ্দিন এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি অভিযোগের বিবাদী ওয়াহিদ এর সঙ্গে ১-২ মাস পূর্বে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই সেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে তিনি ঘটনার যে ৬-৭ জন দলবদ্ধ ভাবে তাকে অতর্কিত হামলা করেছেন তাদের মধ্যে তিনি শুধু ৪ জনের নামে অভিযোগ করেছেন পাশাপাশি বাকিদের অজ্ঞাত ব্যাক্তি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এবং যেদিন ৬-৭জন মিলে তার উপর অতর্কিত হামলার চালায় সেদিন অভিযোগের ৪ জন‌‌ বিবাদী কারো সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা কোনো প্রকার বাকবিতন্ডায় জড়াননি বলে জানিয়েছেন মোঃ জসিম। পাশাপাশি তারা সবাই বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের পার্শবর্তী ভাসমান দোকানদার।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ইমানুয়েল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বাসিং মার্মা কে রিপোর্ট দেখালে তিনি আঘাতটি অনেক পুরোনো বলে ধারণা করছেন তবে এক্সরের কপি পেলে এ বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতো।

 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শবর্তী ভাসমান এক দোকানদার জানান: মোঃ ওয়াহিদ এখানে ৮-১০ বছর যাবত ব্যাবসা করছেন। তিনি কোনোভাবেই এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন না। লোভী ব্যাবসায়ী মোঃ জসিম উদ্দিন একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য তিনি মোঃ ওয়াহিদ ও অন্য ৩ জনের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন আমি এর তীব্র নিন্দা ও দ্রুত সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, মো. জসিম উদ্দিন এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসা করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগের নাটক সাজিয়েছেন। অভিযুক্তরা জানান, তারা দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ওই এলাকায় নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু লোভী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন নিজের একক আধিপত্য বিস্তার ও একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন এবং হয়রানি করছেন।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান: প্রাথমিক ভাবে মোঃ জসিম উদ্দিন তার উপর অতর্কিত হামলার বিষয়ে আমাকে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমি ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি এবং আইনগত ভাবে ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।