খুঁজুন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বান্দরবানের জেলার পর্যটন উন্নয়নে অংশীজনর সাথে মতবিনিময় সভা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের জেলার পর্যটন উন্নয়নে অংশীজনর সাথে মতবিনিময় সভা

বান্দরবানের জেলার পর্যটন উন্নয়নে অংশীজনর সাথে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অদ্য ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার পর্যটন উন্নয়নে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সাচিং প্রু, এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব হুমায়ুন রশিদ, পিএসসি, জোন কমান্ডার, বান্দরবান সেনা জোন; জনাব কর্নেল রুবায়াত জামিল, বিএসপি, সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি, বান্দরবান সেক্টর; বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ সানিউল ফেরদৌস; বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার-সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার পর্যটন খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে জেলার পর্যটনকেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বান্দরবানের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ঝরনা, নদী, নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবার মানোন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রসমূহে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে বিএমএসএফের মানববন্ধন

মোহাম্মদ আবুল বাশার সাইফুল ক্রাইম রিপোর্টার

 

বাংলাদশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বন্দর শাখার আয়োজনে কারাবন্দী সাংবাদিক বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি নূরুজ্জামান মোল্লার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ১০ টায় ১নং খেয়াঘাটে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংগঠনের সভাপতি এস এম শাহীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জি, কে রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের(ডিইউজে)সদস্য ও বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বন্দর থানা শাখার সহ-সভাপতি, আবুল বাশার সাইফুল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর এ আজাদ, অর্থ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু মোর্শেদ,

 

বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি অজিত দাস প্রমুখ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ সভাপতি মান্নান খান বাদল, দপ্তর সম্পাদক রেদোয়ান হোসেন পাভেল, বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের সহ সভাপতি মনির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিউলী আক্তার, মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াবুর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ উজ্জল সরকার, বন্দর উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য ইমদাদুল হক মিলন, কামরুল হাসান রিমন, সাংবাদিক মনির হোসেন, কামরুন নাহার তিশা, শান্তা মনি সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

 

কারাবন্দী সাংবাদিক নুরুজ্জামানের অনতি বিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বক্তারা বলেন, মামলা হামলা দিয়ে কখনোই গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব নয়।

 

পূর্ববর্তী সরকারের দেখানো পথে হাটতে শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এভাবে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে দেশের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে চরম মূল্য দিতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা দ্রুত কারাবন্দি সাংবাদিক নুরুজ্জামান মোল্লাকে নিঃশর্ত মুক্তিও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সাথে সাজানো মামলার নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সহকর্মীর বিরুদ্ধে দাঁড় করা মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পাঁচটি উপজেলার ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারীর প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে।

 

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। লামা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ রুমা উপজেলায় সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাঁচ উপজেলায় মোট ১০০ অসচ্ছল নারী এ সহায়তা পেয়েছেন।

 

সম্প্রতি রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পর্বের অনুষ্ঠান। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়াপ্রধান ও বিএনপির নেতারা।

 

পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভাব-অনটনের মধ্যেও অনেক নারী সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়াকে নতুন আয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ে বেড়ে ওঠা নাইউচিং মার্মাও তাঁদের একজন। ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারানো নাইউচিং অনাথ আশ্রমেই পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণের পর সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

 

নাইউচিং মার্মা বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরও বাড়িয়ে দিল।’

 

একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। তাঁর বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের ব্যয় চালানোর পাশাপাশি চাময়া বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। নতুন সেলাই মেশিন তাঁর জন্য আয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।

 

চাময়া ম্রো বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

 

রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি।

 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকার অসচ্ছল নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

 

বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

বান্দরবানে বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, অপর পক্ষের দাবি মামলা সাজানো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবান সদরে ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক বিরিয়ানি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা ও সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান দোকানদার বিরিয়ানি ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, রাতে আঁধারে একদল লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়। তার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বিরিয়ানি দোকানদার আব্দুল ওয়াহিদ, মো. বোরহান ও মো. রাসেল, চায়ের দোকানদার সোহেল রানা। জসিম উদ্দিনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

মোঃ জসিম উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের সাকিব এন্ড ব্রাদার্স এর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়: মোঃ জসিম উদ্দিন রাতে বাড়িতে সুস্থভাবে প্রবেশ করেন ৩:৪৬ মিনিটে তবে প্রশ্ন থেকেই যায় যদি তার উপর ৩:৪০ মিনিটে জেলা সদরের শিশু পার্কের সামনে ৬-৭ জন মিলে দলবদ্ধ ভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয় তবে তিনি কিভাবে সুস্থ ভাবে নিজেই নিজের গাড়ি চালিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন? সেই প্রশ্ন উত্তর ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় জনমনে।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের ভাসমান বিরিয়ানির দোকানদার এবং অভিযোগের বাদি মোঃ জসিম উদ্দিন এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি অভিযোগের বিবাদী ওয়াহিদ এর সঙ্গে ১-২ মাস পূর্বে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই সেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে তিনি ঘটনার যে ৬-৭ জন দলবদ্ধ ভাবে তাকে অতর্কিত হামলা করেছেন তাদের মধ্যে তিনি শুধু ৪ জনের নামে অভিযোগ করেছেন পাশাপাশি বাকিদের অজ্ঞাত ব্যাক্তি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এবং যেদিন ৬-৭জন মিলে তার উপর অতর্কিত হামলার চালায় সেদিন অভিযোগের ৪ জন‌‌ বিবাদী কারো সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা কোনো প্রকার বাকবিতন্ডায় জড়াননি বলে জানিয়েছেন মোঃ জসিম। পাশাপাশি তারা সবাই বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ের পার্শবর্তী ভাসমান দোকানদার।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান ইমানুয়েল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বাসিং মার্মা কে রিপোর্ট দেখালে তিনি আঘাতটি অনেক পুরোনো বলে ধারণা করছেন তবে এক্সরের কপি পেলে এ বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতো।

 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শবর্তী ভাসমান এক দোকানদার জানান: মোঃ ওয়াহিদ এখানে ৮-১০ বছর যাবত ব্যাবসা করছেন। তিনি কোনোভাবেই এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন না। লোভী ব্যাবসায়ী মোঃ জসিম উদ্দিন একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য তিনি মোঃ ওয়াহিদ ও অন্য ৩ জনের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন আমি এর তীব্র নিন্দা ও দ্রুত সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, মো. জসিম উদ্দিন এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসা করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগের নাটক সাজিয়েছেন। অভিযুক্তরা জানান, তারা দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ওই এলাকায় নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু লোভী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন নিজের একক আধিপত্য বিস্তার ও একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন এবং হয়রানি করছেন।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান: প্রাথমিক ভাবে মোঃ জসিম উদ্দিন তার উপর অতর্কিত হামলার বিষয়ে আমাকে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমি ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি এবং আইনগত ভাবে ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।